বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা এক আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফ্যাকাল্টির কনফারেন্স রুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, মুক্ত সাংবাদিকতার পথে সব সময়ই বাধা বা সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে স্বাধীন গণমাধ্যমই পারে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে।
উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সোহরাব উদ্দীন বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি মনে করেন, সুযোগ বাড়লে কাজের গুণগত মানও বাড়ে। প্রথম আলো বন্ধুসভা নানা সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ক্ষেত্র তৈরি করছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক জি এম মনিরুজ্জামান বলেন, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে গণমাধ্যম কাজ করে। এই সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণমাধ্যম নিয়ে সচেতনতা বাড়াবে। পাশাপাশি সত্য অপপ্রচার বা ভুয়া সংবাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করবে।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক নাহিদা বেগম বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে সমাজের সম্পর্ক অম্লমধুর এবং এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হবে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান মাহমুদুল হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণমাধ্যম কতটা ভালো আছে, তা দিয়ে বোঝা যায়, একটি দেশ কতটা উন্নত বা ভালো অবস্থানে আছে। গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন হবে, সমাজে জবাবদিহি তত বাড়বে।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান খান বলেন, গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন হবে, তত বেশি জবাবদিহিমূলক কাজ হবে। সেটি ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান, যে কেউই হতে পারে। রাষ্ট্র সচল রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্য
সেমিনারের মুখ্য আলোচক ছিলেন বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সময় টেলিভিশনের সিনিয়র ব্রডকাস্টার জাফর সাদিক। তিনি বলেন, মানুষের মুখের কথা যখন পত্রিকায় আসে, তখন মানুষ তা বিশ্বাস করে। এই আস্থা তৈরির পেছনে সংবাদপত্রের শক্ত ভিত্তি কাজ করে। তবে বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে বড় বিষয় শতভাগ নিরপেক্ষ বলে কোনো সংবাদমাধ্যম বর্তমানে এই পৃথিবীতে বিরাজ করছে না। এর পরও শতপ্রতিকূলতার মধ্যে নাগরিক অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অনন্য।
অন্যান্য আলোচকদের বক্তব্য
গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনি আলম বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্র নয়, যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকেও বাধা আসতে পারে। সাংবাদিকতা অনৈতিক হলে মানুষের বিশ্বাস বড় ঝুঁকিতে পড়ে। প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।
‘ডিকোলোনাইজিং জার্নালিজম’ নিয়ে আলোচনা করেন ফিচার রাইটার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ। তিনি স্থানীয় মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি, ধর্ম, অঞ্চল ও ঐতিহ্যের আলোকে সংবাদ পরিবেশন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে খবর আমাদের খুঁজে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যালগরিদম আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। তবে সত্যের সঙ্গে মিশ্রিত মিথ্যা কখনো স্বাধীনতা হতে পারে না।’
একই বিভাগের প্রভাষক মঈনুল রাকীব তথ্যের বিভ্রান্তি নিয়ে বলেন, সঠিক অনুসন্ধানের পরই কেবল কোনো কিছুকে তথ্য হিসেবে ধরা উচিত। যেকোনো কিছু দেখলেই বিশ্বাস না করে প্রশ্ন করতে হবে এবং নিজের মিডিয়া লিটারেসি বাড়াতে হবে।
সভাপতির বক্তব্য ও সমাপ্তি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ কাউছারের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর কুমিল্লা প্রতিনিধি আবদুর রহমান, বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা আশিকুজ্জামান অভি এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আশফাকুর রহমান।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লার রেস্তোরাঁ ‘জাইতুন’। জাইতুনের পক্ষে শুভেচ্ছা জানান মাজেদুর রহমান।
সেমিনার সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সদস্য আমিনা কবির (শ্রেষ্ঠা) ও নিলয় সরকার। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন বন্ধুসভার সদস্য সায়েমা হক ও মেহরাজ আলভী।



