ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ এবং আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজাহারুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা দায়ের
রোববার (৩ মে) ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বালিয়াডাঙ্গী আমলি আদালত) আদালতে স্থানীয় বাসিন্দা মো. করিম উদ্দীন আপন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক মো. তাহমীদুর রহমান অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা (এজাহার) হিসেবে গণ্য করার জন্য বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আগামী ২১ মের মধ্যে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আসামি পরিচিতি
সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজাহারুল ইসলাম (৪৭) ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক এমপি দবিরুল ইসলামের ছেলে। এছাড়া মামলায় আরও দুই জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, বিবাদী মাজাহারুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বাদীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি সকালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন। সেখানে পুনরায় চাঁদা দাবি করলে বাদী তা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা শয়নকক্ষে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন।
বাদীর দাবি, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ প্রকৃতির হওয়ায় সেই সময় তিনি এবং তার পরিবার বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। এমনকি চাঁদা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি আরজিতে উল্লেখ করেন।
সাক্ষী ও আইনজীবীর বক্তব্য
মামলার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় মো. শামসুল, মো. মাহাফুজ মুন্না ও মো. জালালসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুজিত কুমার পাল বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বকুল বলেন, এটি একটি সাজানো মামলা।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পরপরই রোববার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। যেহেতু প্রধান আসামি অন্য মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, তাই তাকে এ মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।



