নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণে ১১ বছরের এক শিশু ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করলেও ১২ দিন পার হলেও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিচয়
আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাড় বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি ওই গ্রামের হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। ২০২২ সালে তিনি এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার স্ত্রীও ওই মাদ্রাসায় শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী শিশুটি ওই এলাকারই এক স্বামীহারা নারীর একমাত্র সন্তান। শিশুটির মা জীবিকা নির্বাহের জন্য সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী তার নানির কাছে থেকে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। গত বছর নভেম্বর মাসে সাগর শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং ঘটনা কাউকে না জানাতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে সাগর অন্য এক শিক্ষককে বলে ভুক্তভোগী শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বিতাড়িত করে।
শারীরিক পরিবর্তন ও মায়ের সন্দেহ
পাঁচ মাস পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। সন্দেহ হলে তার মা সিলেট থেকে বাড়িতে আসে এবং মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সে মাদ্রাসার শিক্ষক সাগরের ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।
বিচার না পেয়ে হুমকি
ঘটনা জানার পর শিশুটির মা বিচার চাইতে এলাকায় আসেন। কিন্তু সাগরের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার না পেয়ে উল্টো তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি।
শিশুর বক্তব্য
শিশুটি জানায়, মাদ্রাসা ছুটি হলে হুজুর তাকে মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিতে বলতেন। একপর্যায়ে মসজিদের কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। সে তার বিচার চায়।
মায়ের আর্তি
ভুক্তভোগীর মা বলেন, 'আমি গরিব মানুষ, সিলেটে কাজ করে খাই। বাড়িতে এসে একসঙ্গে ঘুমাতে যাই। মেয়েকে বলি, মা তোমার পেট বড় কেন? তখন মেয়েটি জানায়, ওই শিক্ষক তার এ ক্ষতি করেছে। মামলার ১২ দিন পার হলেও ওই লম্পট শিক্ষক গ্রেফতার হয়নি। আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।'
পুলিশের বক্তব্য
মদন থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, 'ঘটনার সময় আমরা জানতাম না, পরে বিষয়টি জেনেছি। ভুক্তভোগীর মা থানায় মামলা করেছেন। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি পুলিশ সুপার দেখছেন। আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করা হবে।'
প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় সোমবার (৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমপি লুৎফুজ্জামান বাবর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।



