ভাঙ্গায় কিশোরী শ্লীলতাহানি: ২০ হাজার টাকায় রফাদফা, ক্ষোভ
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মুনসুরাবাদ এলাকায় এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মাতবররা অভিযুক্ত গ্যারেজ মিস্ত্রি দেলোয়ারকে (৫৫) ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে বিষয়টি রফাদফা করে দিয়েছেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
গত ২৫ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী কিশোরী তার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত দেলোয়ার তার ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী জানান, তার পরিবার গুচ্ছগ্রামের একটি সরকারি ঘরে বসবাস করে। দেলোয়ার তাদের ওই ঘরে আশ্রয় দিয়েছিল। তার বাবা দেলোয়ারের কাছ থেকে একটি ভ্যান ভাড়া নিয়ে সংসার চালান। দীর্ঘদিন ধরে তার মা অসুস্থ থাকায় নানির বাড়িতে থাকেন। এই সুযোগে দেলোয়ার রাতে প্রায়ই তার ঘরে ঢুকে কুপ্রস্তাব দিত এবং তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাত। তার কথা না শুনলে বাবাকে ভ্যান ভাড়া না দেওয়ার হুমকি দিত।
স্থানীয় সালিশ ও ক্ষোভ
ঘটনার পর এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় মাতবররা রোববার (৩ মে) রাত ৯টায় একটি সালিশ বসান। ওই সালিশে অভিযুক্ত দেলোয়ারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভুক্তভোগীর দাদি ও চাচা জানান, তাদের ডেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার কথা বলা হয়। তারা আরও জানান, সালিশ না মানলে এবং বড়াই করলে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, তাদের আত্মীয়-স্বজন না থাকায় স্থানীয় লোকজন তাদের হুমকি দিচ্ছে এবং মামলা করতে বাধা দিচ্ছে। তারা এই সালিশ মানবেন না বলে জানিয়েছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযুক্ত দেলোয়ার দাবি করেন, তাকে ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি ঘটনার বিচার চান।
পুলিশের অবস্থান
ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দিতে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



