কুমিল্লা নগরীর ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বুধবার যুগান্তরের প্রথম পাতায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীরা বেঞ্চে পা তুলে বা পানিতে পা রেখে পরীক্ষা দিচ্ছে। বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু) কে ফোন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রশাসকের কার্যক্রম
প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা বুধবার ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনসহ প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসক বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করে ওই বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। এখানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।'
জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ
কুসিক সূত্র জানায়, টানা দুই দিনের ভারি বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। প্রশাসকসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী জনদুর্ভোগ কমাতে কাজ করছেন। প্রতিটি ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের খালগুলো সচল করা হচ্ছে। এর ফলে বুধবার নগরীতে তেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। প্রশাসক বলেন, 'নগরীর অধিকাংশ পানি গুইংগাঝুরি খাল হয়ে ডাকাতিয়া নদীতে পতিত হয়। নগরীর বাইরের অংশে সেই খালে ময়লা ফেলে বাঁধের মতো অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমরা সারা রাত কাজ করে সেটি অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করেছি।'
বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা
ঈশ্বর পাঠশালা (উচ্চ বিদ্যালয়) ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। এবার এই কেন্দ্রে ৬০৮ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে পুরোনো একতলা টিনশেড ভবনের ৪টি কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছে ২১৬ জন। মঙ্গলবার ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষার সময় বৃষ্টির কারণে ভবনটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর ওই ৪টি কক্ষের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের আরেকটি ভবনে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশের ৬ তলা ভবনের ৬টি কক্ষে বৃহস্পতিবারের এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার বিকালে দেখা গেছে, মাঠের পশ্চিম পাশের পুরোনো একতলা টিনশেড ভবন থেকে পানি সরে গেছে। নগর কর্তৃপক্ষের খাল ও ড্রেন পরিষ্কারের কারণে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া
ঈশ্বর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক শুধাংশু কুমার মজুমদার বলেন, 'যুগান্তরে প্রকাশিত ছবি দেখেছি। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী প্রশাসককে ফোন করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা খুশি। মঙ্গলবার পরীক্ষা শুরুর সময় কোনো সমস্যা ছিল না, কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে কক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। শত বছরের পুরোনো বিদ্যালয়ে ভবন সংকটের কারণে পুরোনো ভবনটিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়। আমরা নতুন ভবন ও মাঠ উঁচু করাসহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই।'
সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ভারি বর্ষণের পর নগরীর নোয়াগাঁও রেলগেট গুইংগাঝুরি খাল পয়েন্ট, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর খাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তামজিদ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন গুইংগাঝুরি খাল ও রেইসকোর্স খাল দিয়ে নগরীর বেশির ভাগ পানি অপসারিত হয়; কিন্তু ময়লা ফেলায় এসব খাল অচল হয়ে ছিল। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পর তাৎক্ষণিকভাবে খালগুলো পরিষ্কার করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এখন দ্রুত পানি সরে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর প্রতিটি খাল ও নালা পরিষ্কার করা হবে।



