যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার হিলসবরো কাউন্টির একটি আদালত আবুঘরবেহকে জামিন না দিয়ে কারাবন্দী করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
১৬ এপ্রিল টাম্পা বে এলাকায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন বৃষ্টির একজন বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। গত শুক্রবার লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় তিনি খুন হয়েছেন। বৃষ্টির মরদেহের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তার ও অভিযোগ
২৪ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি লিমনের সঙ্গে একই অ্যাপার্টমেন্টের একটি কক্ষে শেয়ারে ভাড়া থাকতেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের শুনানি
মঙ্গলবার হিলসবরো কাউন্টি জজ জে লোগান মারফি আবুঘরবেহকে জামিন না দিয়ে কারাগারে রাখার আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে কোনো সাক্ষী বা নিহতদের স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংক্ষিপ্ত শুনানিতে আবুঘরবেহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
প্রসিকিউটররা আশা করছেন, আগামী ৭ মে মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রথমে গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে, তারপর ঠিক করব আমরা মৃত্যুদণ্ড চাইব কি না।’
বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া
শুনানির দিন আদালতকক্ষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি দল উপস্থিত ছিল। তাঁদের মধ্যে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু আবীর আল হাসিব সৌরভ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিরা এখানে একটি পরিবারের মতো বসবাস করি। একসঙ্গে খাবার খাই, বেড়াতে যাই। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য এই ব্যক্তিকে ন্যায়বিচারের আওতায় আনা।’
সালমান সাদিক শুভ বলেন, ‘আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে চাই। আমরা নিজেদের দায়িত্বশীল মনে করি এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই।’ রিফাতুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো অনেক প্রক্রিয়া বাকি। আমরা এখানে বাসা থেকে ৮ হাজার মাইল দূরে থেকে এসেছি। এখানে তারাই আমাদের পরিবার। যে জায়গাকে আমরা সবচেয়ে নিরাপদ মনে করি—আমাদের ঘর, রান্নাঘর—সেখানেই তাদের হত্যা করা হয়েছে। এটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বন্ধুদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করে বলেন, ‘আমি ভাবতে পারিনি তাঁদের এত বন্ধু আসবেন। তাঁদের এই সমর্থন দেখে আমি খুবই খুশি।’



