চাঁদাবাজি মামলায় পলাতক আসামি কারাগারে থেকেও গ্রেপ্তার নন
চাঁদাবাজি মামলায় পলাতক আসামি কারাগারে থেকেও গ্রেপ্তার নন

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকায় ৭ বছর আগে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় করা মামলায় পলাতক আসামি ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। মামলার নথি অনুযায়ী তিনি এখনো পলাতক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

ঘটনার বিবরণ

২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন নয়াহাট এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াজেদের পাঁচতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়। পরের বছরের ১৮ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযোগপত্রের বক্তব্য

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে ইমতিয়াজ ফোনে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই ব্যবসায়ীর কাছে। না পেয়ে তাঁর বাড়িতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেন। মামলায় সাজ্জাদ, ইমতিয়াজ ছাড়াও বড় সাজ্জাদের সহযোগী সরোয়ার বাবলা, নুরনবী ম্যাক্সন, রুহুল আমিন, মো. তুহিন, আবদুল কাদের, মো. জাবেদ ও রায়হান আহমেদসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে সরোয়ার ও নুরনবী বর্তমানে বেঁচে নেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইমতিয়াজের বর্তমান অবস্থা

ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম একসময় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ছিলেন। র‍্যাবের একটি অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাত বছর আগে করা মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে, তবে তাঁকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানোর কোনো আবেদন করেনি সরকারি কৌঁসুলি কিংবা পুলিশ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনজীবীদের মতামত

আইনজীবীরা জানান, কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে অন্য মামলায় পলাতক দেখানোর সুযোগ নেই। তাঁকে সেই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে হয়। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, কোনো মামলার পলাতক আসামি অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হলে তাঁকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করবেন পিপি কিংবা তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ। পিপি কিংবা পুলিশ আবেদন না করলে পলাতক সেই আসামি যে মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই মামলায় দ্রুত জামিনে বেরিয়ে যেতে পারেন। পরবর্তী সময় তাঁকে আর গ্রেপ্তার না–ও করা যেতে পারে। এতে আসামি বিচারের আওতায় আসবে না এবং অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।

পুলিশ ও র‍্যাবের বক্তব্য

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, ইমতিয়াজ চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। চট্টগ্রামের স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর তিনি পালিয়ে ভারত হয়ে দুবাই চলে যান। সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলার সঙ্গে সখ্য হয় তাঁর। তিনি আরও বলেন, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন ও মুরাদপুর এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি নম্বর থেকে কল দিয়ে চাঁদা আদায় করতেন ইমতিয়াজ। এ ছাড়া তিনি ‘রিচ কিডস’ নামের একটি আলোচিত কিশোর গ্যাং গ্রুপও পরিচালনা করতেন। বিভিন্ন সময়ে নিজের পরিচয় গোপন করে দেশে আসা-যাওয়া করতেন।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মামলার বর্তমান অবস্থা

মামলাটি ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আককাসের আদালতে বিচারাধীন। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। কিন্তু সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় সাক্ষ্য শুরু হচ্ছে না। আসামিদের মধ্যে সাজ্জাদ, ইমতিয়াজ ও রায়হান পলাতক হিসেবে রয়েছেন, বাকিরা হাজির আছেন।

সর্বশেষ ২৩ এপ্রিল চাঁদাবাজির ওই মামলার নির্ধারিত তারিখ থাকলেও ইমতিয়াজকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়নি, আনা হয়নি কারাগার থেকেও। আগামী ২ জুলাই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলা

ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন হত্যা মামলা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও নাশকতার পাঁচটি মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, ইমতিয়াজ বড় সাজ্জাদের হয়ে কাজ করলেও পরে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত বছরের মার্চে ছোট সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই বিরোধ। এরপর বড় সাজ্জাদ, তাঁর সহযোগী রায়হানসহ সন্ত্রাসীরা ইমতিয়াজকে হুমকি দিয়ে আসছেন। হুমকির পর ইমতিয়াজের বাড়িতে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে পাহারাও বসানো হয়।

ইমতিয়াজের স্ত্রী রুমা আক্তার বলেন, তাঁর স্বামীকে র‍্যাব দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে এবং বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদই এই কাজ করেছেন।