সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কৃষক আজগর আলীকে হত্যার পর তার নগ্ন লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত ঘটনা
গত ২৯ মার্চ রাতে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর গ্রামের উত্তরহাটিতে আজগর আলীকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তার নগ্ন লাশ সীমান্ত নদী জাদুকাটায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ৩০ মার্চ তাহিরপুরের বাদাঘাটের কালিকাপুর (বিন্নাকুলি) গ্রামের পেছনে সীমান্ত নদী জাদুকাটা থেকে আজগর আলীর ভাসমান নগ্ন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
লাশ উদ্ধার ও তদন্ত
সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করার সময় নিহতের শরীরে একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপানো জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ১ এপ্রিল রাতে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাটের মিয়ারচর উত্তরহাটির নিহতের ছেলে সৈয়দ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের অভিযুক্ত করে তাহিরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার ও আদালতে সোপর্দ
পুলিশের তদন্তের ধারাবাহিকতায় সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে বিশ্বম্ভরপুরের মিয়ারচর এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাটের মিয়ারচর গ্রামের পূর্বহাটির মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে জুলহাস মিয়া ও একই গ্রামের উত্তরহাটির মৃত ছিদ্দু মিয়ার ছেলে মুল হোসেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে তাদের কৃষক হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী অফিসার তাহিরপুর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
পুলিশের সতর্ক বার্তা
এই ঘটনায় পুলিশ আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং সম্ভাব্য অন্য জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং পুলিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে।



