স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় আসামি মোহাম্মদ সালামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মোস্তাগীর আলম সোমবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশ পাহারায় আসামিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
মামলার বিস্তারিত ঘটনা
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করে আসামি মোহাম্মদ সালাম। স্কুলছাত্রীর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর, আর আসামির বয়স ২৫ বছর। পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের কাবিননামা তৈরি করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মেডিকেল রিপোর্টে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও, ভিকটিমের বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এ কঠোর রায় প্রদান করেন।
আদালতের যুক্তি ও রায়ের প্রভাব
আদালত উল্লেখ করেন যে, শিশু অধিকার রক্ষায় এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর শাস্তি অপরিহার্য। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ সালাম দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের বজলুর রশিদ মজুরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এই রায় শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় সম্প্রদায় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আশা প্রকাশ করছে যে, এ ধরনের কঠোর রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ কমাতে ভূমিকা রাখবে।



