মানিকগঞ্জে শিশু হত্যার প্রতিশোধে গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে দুই ভাইকে গণপিটুনিতে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় তিন দিন পর থানায় মামলা হয়েছে। গত রোববার রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হলেও পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
শিশু হত্যার ঘটনা ও পরবর্তী প্রতিশোধ
গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার পর থেকে সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের সৌদিপ্রবাসী দুদল মিয়ার মেয়ে আতিকা আক্তার (৭) নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের লোকজন এক কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে যে, আতিকাকে হাত ও পা বেঁধে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে রেখে তার কানের সোনার গয়না নিয়ে বাজারে বিক্রি করেছে। রাত নয়টার দিকে ভুট্টাখেত থেকে শিশু আতিকার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিহত শিশুর স্বজন ও এলাকাবাসী ওই কিশোরের বাবা পান্নু মিয়া ও চাচা ফজলুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যা করেন। পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে কিশোরের বড় ভাই নাজমুল হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার বিস্তারিত ও গ্রেপ্তার
শিশু আতিকা আক্তার হত্যার ঘটনায় গত শনিবার দুপুরে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন শিশুর মা আরিফা আক্তার। এই মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে গ্রেপ্তার কিশোর, আহত নাজমুল হোসেন, নিহত ফজলু মিয়া ও পান্নু মিয়া অন্তর্ভুক্ত। গত শুক্রবার রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে আসামি কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সে শিশু হত্যার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
কিশোর জানিয়েছে, শিশুটির কানের সোনার দুল নিতে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং দুলটি স্থানীয় ভাড়ারিয়া বাজারের সোনার দোকানি নিত্য কর্মকারের কাছে বিক্রি করেছে। নিত্য কর্মকারকেও চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে কিশোরকে গাজীপুরে কিশোর সংশোধনাগারে এবং নিত্য কর্মকারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পিটুনি হত্যার মামলা ও পুলিশের বক্তব্য
গত রোববার রাতে নিহত পান্নু মিয়ার স্ত্রী নার্গিস বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, "পিটুনিতে দুই সহোদরকে হত্যার ঘটনায় গতকাল হত্যা মামলা হয়েছে। ওই মামলায়ও আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।"
এই ঘটনা সমাজে আইনের শাসন ও প্রতিশোধের সংস্কৃতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ উভয় মামলায় তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানানো হয়েছে।



