জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনে অবস্থিত প্রক্টর অফিসের ফটক ও দেয়ালে কর্তৃপক্ষকে ব্যর্থ হিসেবে অভিহিত করে বিভিন্ন কথা লিখে পদত্যাগ দাবি করেন।
রেজিস্ট্রার ভবনে ‘ব্যর্থ প্রক্টর অফিস’, ‘অক্ষম’ লেখা দেখা যায়, যা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থীদের তীব্র অসন্তোষের প্রতিফলন বলে অঙ্কনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একের পর এক নিপীড়ন, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, যা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।
দর্শন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সজীব আহমেদ জেনিস বলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রক্টর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিক নিপীড়নের অভিযোগ উঠলেও কোনও ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টর কার্যালয় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।’
একইভাবে ইতিহাস বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ক্যাম্পাসে ধর্ষণচেষ্টা, নিপীড়ন ও হত্যাচেষ্টার মতো ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসন কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাই আমরা প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল বলেন, ‘আমরা দেখেছি, একদল শিক্ষার্থী দেয়ালে লিখছে। আন্দোলনের কোনও এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এটি লিখেছে।’
এর আগে, গত মঙ্গলবার রাত ১১টার পর পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় এক ছাত্রীকে ঝোপে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক বহিরাগতের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীরা জড়িতদের দ্রুত বিচার, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বুধবার রাতে তারা প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
এদিকে, ঘটনার পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।



