জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মণি কিশোর গ্যাং উৎখাত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলই তাদের প্রথম টার্গেট। সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব না হলেও এমন অবস্থায় নেওয়া হবে যাতে নতুন কেউ মাদকে জড়িয়ে না পড়ে। কিশোর গ্যাং উৎখাত এবং চোরাচালান বন্ধেও তারা কাজ করবেন।
আইনশৃঙ্খলা সভায় বক্তব্য
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সরকারপ্রধানের প্রশংসা
নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সরকারপ্রধান তারেক রহমান বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করেছেন। তিনি দেশকে দুই ভাগ করেননি, চেতনা বিক্রি করেননি। ১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুর স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু সেই সিঙ্গাপুর এখন কোথায় আর আমরা কোথায়। চেতনা বিক্রি করতে করতে আমরা নিজেরাই বিক্রি হয়ে গেছি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে।
কৃষক ও নারী কল্যাণে উদ্যোগ
চিফ হুইপ বলেন, তারেক রহমানের বাস্তবায়িত উদ্যোগের মধ্যে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা স্বল্প মূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন। এছাড়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও পাবেন।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে অবহেলিত নারীদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীদের ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জেম, পুরোহিত ও পাদ্রীদের সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, একসময় দেশের পেট্রোল পাম্পে তেলের লাইন দুই থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। পরে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত পদক্ষেপে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তিনি দাবি করেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
প্রশাসনের ভূমিকা ও বরগুনার উন্নয়ন
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয় যদি প্রশাসন আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ না করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বরগুনার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বরগুনাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় ইকোনমিক জোন, বায়ু বিদ্যুৎ, পর্যটন, গভীর সমুদ্রবন্দর, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ, জাহাজ ভাঙা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া বরগুনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, মৎস্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র, আবহাওয়া অফিস এবং চারলেন রাস্তা নির্মাণের কথাও বলেছেন তিনি।



