সুপ্রিম কোর্টে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আসামিকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছে বাদীপক্ষ। এই আবেদনের শুনানির দিন নির্ধারণ হয়েছে আগামী ২৩ আগস্ট।
শুনানির দিন নির্ধারণ
আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ মঙ্গলবার এ দিন নির্ধারণ করেন। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ শুনানি হবে। এই মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে তিন আসামির করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত বছরের আগস্টে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া পল্লবী থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল হাসানের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খালাসের বিরুদ্ধে আপিল
বিচারিক আদালতের রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড পাওয়া রাসেলকে (পুলিশের তথ্যদাতা বা সোর্স) খালাস দেওয়া হয়। তাঁকে নিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে নিহত ইশতিয়াকের ভাই, মামলার বাদী ইমতিয়াজ হোসেন গত মাসে লিভ টু আপিল করেন। এটি চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকার ১২৯ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে লিভ টু আপিলকারীর পক্ষে শুনানিতে থাকা আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, রাসেলের খালাসের রায় স্থগিত চাওয়া হয়েছিল। আদালত স্থগিতাদেশ না দিয়ে লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ২৩ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন। লিভ টু আপিলে খালাসের রায় বাতিল চাওয়া হয়েছে।
মামলার পটভূমি
এটি নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে করা প্রথম মামলা। ২০১৩ সালে আইনটি প্রণীত হয়েছিল। জনির মৃত্যুর পর ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট মামলা করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর ইরানি ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. বিল্লালের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে পুলিশের সোর্স সুমন নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করলে জনি ও তাঁর ভাই ইমতিয়াজ এর প্রতিবাদ করেন। এরপর পল্লবী থানা–পুলিশ এসে দুই ভাইকে ধরে নিয়ে যায়। থানায় নির্যাতনে জনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিচারিক আদালতের রায়
পাঁচজনকে আসামি করে দায়ের করা এই মামলায় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রায় দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ। রায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এসআই জাহিদুর রহমান, এএসআই রাশেদুল হাসান ও কামরুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। তাঁদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্য দুই আসামি পুলিশের তথ্যদাতা (সোর্স) সুমন ও রাসেলের সাত বছর করে কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন বিচারিক আদালত।
হাইকোর্টের রায়
বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে জাহিদুর, রাশেদুল ও রাসেল হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেছিলেন। তিন আসামির পৃথক আপিলের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে গত বছরের ১০ ও ১১ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। তাতে জাহিদুরের শাস্তি অপরিবর্তিত থাকলেও রাশেদুলের সাজার মাত্রা কমে। আর খালাস পান রাসেল।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুসারে, বিচারিক আদালতে দণ্ডিত পাঁচ আসামির মধ্যে কামরুজ্জামান শুরু থেকে পলাতক। অন্য আসামি সুমন সাজা ভোগ করে এখন কারামুক্ত।



