সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় করা মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার এজাহারভুক্ত বিএনপির ১ নেতাসহ ১০ জনের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্র দাখিল
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম গতকাল সোমবার সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (তাহিরপুর জোন) অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার বিবরণ
গত বছরের ১৫ অক্টোবর জাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে তাহিরপুর থানায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ৬ থেকে ১১ অক্টোবর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। হাজারো মানুষ নৌকা ও বাল্কহেড ব্যবহার করে বালু লুট করে নিয়ে যান।
অভিযুক্তদের তালিকা
অভিযোগপত্রে তাহিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন, বাদাঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খাজা মাইনুদ্দিন, মোশাহিদ আলম ওরফে রানু মেম্বার, জামাল মিয়া, বিল্লাল মিয়া, বোরহান উদ্দিনসহ ২৭ জনের নাম আছে। একই ঘটনায় এর আগে রানু মেম্বার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
তবে মামলার এজাহারে নাম থাকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাকাব উদ্দিনের নাম অভিযোগপত্রে নেই।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
মোহাইমিনুল হক বলেন, 'তদন্তে যাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, শুধু তাঁদের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অন্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।'
ইজারা কার্যক্রম স্থগিত
উল্লেখ্য, গত বছর জাদুকাটা নদীর দুটি বালুমহাল ১০৭ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশে এবার ইজারা কার্যক্রম স্থগিত থাকায় কোনো ইজারা হয়নি। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।



