রাজধানীর বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার ১৪ আসামির মধ্যে ১৩ জনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মো. তাইমুর সাইফ নামে এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে রিমান্ড শুনানি
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আসামিদের রিমান্ডের আদেশ দেন।
পক্ষ-বিপক্ষের যুক্তি
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের ভিন্ন ভিন্ন আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে আদালতকে বলেন, আসামিরা ঘটনার দিন বিশ্বকাপ খেলা দেখছিলেন এবং রাজনীতিতে বা কোনো সংগঠনে তাদের কোনো পদ-পদবী নেই। সুতরাং, তাদের রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মোতাহের হোসেন শুভ (৩০), মারুফুল ইসলাম (২৪), তানভীর আহম্মেদ সানী (২৪), ওয়ালিউল্লাহ ফারুক আদর (১৮), সামির চৌধুরী লিমন (১৮), ইমন আলী খান (১৯), (১৮), ইয়াছিন আরাফাত আবির (২১), সিফাত রহমান (১৯), ইয়ামিন আরাফাত নিহাদ (২০), নাজমুল সরকার (১৯), আবির হোসেন (২১), তৌকির তারেক আয়াজ (২২) এবং হাবিবুর রহমান (৪৭)।
মামলার অভিযোগ
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মাসের ১৬ তারিখ ভোররাত ৪টা ১০ মিনিটে আসামিরা বনানী থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের (আউটগোয়িং) নেভি হেডকোয়ার্টার্সের বিপরীত পাশে পাকা রাস্তার ওপর বেআইনিভাবে জড়ো হন। এসময় একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে এই আসামিদের গত ১৩ জুন গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গ্রেফতারকৃতরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা ওই স্থানে অবস্থান নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা করে মিছিলের প্রস্তুতি নেন। একই সাথে তারা পরস্পর যোগসাজশে ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার মাধ্যমে সরকারি ও জনসাধারণের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত বা পতন ঘটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান সম্বলিত লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছিলেন। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস সংক্রান্ত লেখা ও নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত ২৪টি পিভিসি পোস্টার, একটি টিভিএস আরটিআর মোটরসাইকেল এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেছেন। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, অর্থ জোগানদাতা ও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা এবং পলাতক ১০/১৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামিকে গ্রেফতারের স্বার্থে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।



