সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতো ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্স। একপর্যায়ে সেটি বন্ধ করে দেয় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। তবে, বিমানবন্দরটি থেকে ফের ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাচ্ছে এয়ারলাইন্সটি। জাতীয় সংসদে বিষয়টি জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
সংসদে প্রশ্নোত্তর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী প্রশ্ন রেখে বলেন, “সিলেট-৬ এর অধিকাংশ জনগণ বিদেশে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। সিলেটবাসীর আকাশপথে যাতায়াতের জন্য একমাত্র সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেও বাংলাদেশের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়া অন্য কোনও দেশের বিমান উঠানামা করতে দেখা যায় না। তাই সিলেটের রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও বিদেশি পর্যটকদের হয়রানি লাঘব এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সের বিমান নামার ব্যবস্থা করা হবে কিনা?”
মন্ত্রীর জবাব
জবাবে আফরোজা খানম বলেন, “বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডন, দুবাই, আবুধাবি, মাসকট, জেদ্দা, শারজাহ ও দোহা রুটে সপ্তাহে ২৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। বর্তমানে বিমান ছাড়া অন্য কোনও এয়ারলাইন্স সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে না। ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট থেকে দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্স। কিন্তু পরবর্তীতে তারা ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে। তারা পুনরায় সিলেট থেকে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।”
তিনি বলেন, “এয়ারলাইন্সগুলো তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনায় কোনও একটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখা অথবা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী সকল এয়ারলাইন্সকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিয়ে থাকে।”
মন্ত্রী বলেন, “সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনুরূপ প্রায় সকল সুযোগ বিদ্যমান আছে। ফলে সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। সম্প্রতি সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের আগ্রহের প্রেক্ষিতে সিলেট ও সৌদি আরবের মধ্যে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অচিরেই সিলেট থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে।”



