দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ এবং অর্থের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগে একজন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপারকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গ্রেফতার যুবক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মো. আরমান হোসেন (২২)।
গ্রেফতারের বিস্তারিত
গত ৫ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের মানিকদি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।
অভিযোগের সূত্রপাত
সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর সিপিসির সাইবার মনিটরিং সেল অনলাইন মনিটরিংয়ের সময় সিয়াম হাওলাদার নামের একটি ফেসবুক আইডি পায়। সেই আইডি থেকে দেওয়া পোস্টে দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য (জাতীয় পরিচয়পত্রের পূর্ণ ডেটা, এসএমএস তালিকা, বিকাশসহ বিভিন্ন এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য) অর্থের বিনিময়ে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিলো। পরে এ বিষয়ে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করে।
প্রথম গ্রেফতার
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একই বছরের ১৩ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের কমলনগর এলাকা থেকে সিয়াম হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য আলামত জব্দ করে সিআইডি। তার স্মার্টফোনে ‘সব এখানে’ নামক একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপও পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই অ্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ এবং বিক্রির কথা স্বীকার করেন সিয়াম। তাকে গ্রেফতারের পর ১৪ অক্টোবর সিআইডির এসআই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে মামলা করেন।
চক্রের আরেক সদস্য গ্রেফতার
সিয়ামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর খুলনার কয়রা থেকে গ্রেফতার করা হয় চক্রের অন্যতম অ্যাডমিন মো. আল আমিনকে (২৩)। পরে আল আমিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানান, তিনি শুধু বিপণন দেখতেন, এই পুরো সিস্টেম এবং অ্যাপটি তৈরি করেছেন অন্য আরেকজন দক্ষ প্রোগ্রামার।
প্রধান ডেভেলপার গ্রেফতার
এরপর তদন্তে পাওয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চলতি বছরের ৫ মে মানিকদি এলাকা থেকে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপার আরমান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন, ৬টি সিমকার্ড এবং একটি ল্যাপটপ জব্দ করেছে সিআইডি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আরমান একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। প্রোগ্রামিং এবং ওয়েব ডেভেলপিংয়ের কাজে তিনি খুবই দক্ষ। এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রেফতার অপর আসামি আল আমিনের নির্দেশনায় ‘সব এখানে’ নামক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট তৈরি করেন। ওই অ্যাপের মাধ্যমে এই চক্রের অন্যদের সহযোগিতায় দেশের নাগরিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য এবং মামলা সংক্রান্ত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতেন।
তথ্য সংগ্রহের কৌশল
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিক্রি করা সংবেদনশীল তথ্যগুলো জাতীয় গোপনীয় ডাটাবেজ থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করতো। এই চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে আসামির হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনি প্রক্রিয়া
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, গ্রেফতার আরমানকে রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার রহস্য উদঘাটন ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত করছে সিআইডি।



