মেটা’র হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ ম্যানাস-এর মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে চীন। উন্নত প্রযুক্তির স্থানান্তর নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগের মুখে সোমবার এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিয়েছে চীন সরকার। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
চীনের নিষেধাজ্ঞা
চীনের সর্বোচ্চ পরিকল্পনা সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন এক বিবৃতিতে বিদেশি মালিকানাধীন এই অধিগ্রহণ নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এই চুক্তি থেকে সরে আসার নির্দেশ দিয়েছে।
বিবৃতিতে মেটা প্ল্যাটফর্মের নাম সরাসরি উল্লেখ না করা হলেও, বছরের শুরুর দিকেই চীনা কর্তৃপক্ষ এই চুক্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছিল। নিরাপত্তা পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিশনের অফিস চীনের আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মেটার পরিকল্পনা
গত ডিসেম্বরে মেটা ঘোষণা করেছিল যে তারা ম্যানাসকে অধিগ্রহণ করছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এই স্টার্টআপটির শিকড় চীনে। ম্যানাসের ‘জেনারেল-পারপাস’ এআই এজেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল কাজ করতে সক্ষম, যা মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। মেটা তখন দাবি করেছিল, ‘ম্যানাসে চীনের কোনও মালিকানা থাকবে না’ এবং সংস্থাটি চীনে তাদের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে।
চীনের অবস্থান
তবে মেটার এমন দাবির পরও চীন সোমবার বলেছে, ম্যানাস লেনদেন প্রযোজ্য আইন পুরোপুরি মানেনি। এ বিষয়ে মেটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই অনুসন্ধানের একটি ‘উপযুক্ত সমাধান’ পাওয়ার আশা করছে।
এই বাতিলের ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এআই শিল্পের ওপর চীনের এই কড়াকড়ি নজরদারিকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতামত
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জে সু বলেন, ‘চীন বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে এআই প্রতিভা ও সক্ষমতার বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থানে যেতে রাজি। চীন একে জাতীয় নিরাপত্তার মূল সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চীনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অধিগ্রহণের বিষয়ে ভবিষ্যতে চীনা কর্তৃপক্ষ কী করতে পারে, এটি তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।’



