প্রযুক্তি নিয়ে ২৪টি প্রচলিত মিথ ও সত্য
প্রযুক্তি নিয়ে ২৪টি প্রচলিত মিথ ও সত্য

প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের চারপাশে অসংখ্য ভুল ধারণা ছড়িয়ে আছে। কিছু খুব সাধারণ— যেমন ভেজা ফোন চালু করতে চালের মধ্যে রেখে দেওয়া, আবার কিছু একেবারেই ভীতিকর— যেমন ফাইভজি টাওয়ার মানুষকে অসুস্থ করে তোলে। এইসব ভুল তথ্য বছরের পর বছর ধরে ছড়িয়ে পড়েছে, আর এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে আরও দ্রুত ছড়াচ্ছে। তাই আসুন, প্রযুক্তি নিয়ে বহুল প্রচলিত ২৪টি মিথ ভেঙে সত্যটা জেনে নেওয়া যাক।

১. ইনকগনিটো মোড পুরোপুরি নিরাপদ

ইনকগনিটো বা প্রাইভেট ব্রাউজিং আপনার ব্রাউজারের হিস্ট্রি ও কুকি মুছে দেয়, কিন্তু এটি আপনাকে সম্পূর্ণ গোপন রাখে না। আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি), অফিস বা স্কুল নেটওয়ার্ক আপনার কার্যকলাপ দেখতে পারে।

২. ‘আমি ছোট মানুষ বা গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই, আমাকে হ্যাক করবে না’

ভুল ধারণা। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন পাসওয়ার্ড, কার্ড নম্বর) সাইবার অপরাধীদের কাছে মূল্যবান। তাই আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা জরুরি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. ম্যাক বা আইফোনে ভাইরাস হয় না

এগুলো তুলনামূলক নিরাপদ হলেও সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। আপডেট না করলে যেকোনও ডিভাইসই আক্রমণের শিকার হতে পারে।

৪. এআই এখন সচেতন

বর্তমান এআই খুব উন্নত হলেও এটি মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে না বা অনুভূতি নেই। এটি কেবল ডেটার প্যাটার্ন অনুসরণ করে।

৫. অ্যালেক্সা সব সময় সবকিছু রেকর্ড করে

না। এটি শুধু ‘ওয়েক ওয়ার্ড’ শোনার পরই রেকর্ড করে। তবে আপনি চাইলে রেকর্ড ডিলিট বা বন্ধ করতে পারেন।

৬. ফোন ক্যামেরা = প্রফেশনাল ক্যামেরা

ফোন ক্যামেরা ভালো হলেও বড় সেন্সর ও লেন্সের কারণে ডিএসএলআর বা মিররলেস ক্যামেরা এখনও এগিয়ে।

৭. ব্যাটারির ‘মেমোরি’ থাকে

এটি পুরনো ব্যাটারিতে সত্য ছিল। আধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে এই সমস্যা নেই।

৮. ০% থেকে চার্জ দেওয়া উচিত

ভুল। ২০%–৮০% এর মধ্যে চার্জ রাখাই সবচেয়ে ভালো।

৯. সারারাত চার্জ দিলে ফোন নষ্ট হয়

না। ফোন ১০০% হলে নিজেই চার্জ বন্ধ করে দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১০. ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি রিসাইকেল করা যায় না

ভুল। এগুলো বারবার রিসাইকেল করা সম্ভব।

১১. ফাইভজি টাওয়ার অসুস্থ করে

এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

১২. ইএমএফ (রেডিয়েশন) আপনাকে ক্ষতি করে

সাধারণ ব্যবহারের ডিভাইস থেকে আসা রেডিয়েশন খুবই কম এবং নিরাপদ।

১৩. দামি HDMI কেবল মানে ভালো ছবি

ডিজিটাল সিগনালে দামি কেবল কোনও পার্থক্য আনে না।

১৪. স্টারলিংক সবার ইন্টারনেট রিপ্লেস করবে

এটি মূলত গ্রামীণ এলাকার জন্য ভালো, শহরে নয়।

১৫. এয়ারপোর্ট স্ক্যানারে ডেটা মুছে যায়

পুরোপুরি মিথ। এটি আপনার ডিভাইসের কোনও ক্ষতি করে না।

১৬. প্রতিদিন কম্পিউটার বন্ধ করা উচিত

প্রয়োজন অনুযায়ী। সবসময় বন্ধ করা বাধ্যতামূলক নয়।

১৭. পুরনো ফোন ধীর করে দেওয়া হয় নতুন কিনতে বাধ্য করতে

কিছু ক্ষেত্রে ব্যাটারি সমস্যার কারণে পারফরম্যান্স কমানো হয়েছিল, তবে এখন বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত।

১৮. কেবল টিভি বাদ দিলে অনেক টাকা বাঁচে

সব স্ট্রিমিং সার্ভিস ব্যবহার করলে খরচ প্রায় একই হয়ে যায়।

১৯. ক্লাউড মানে আকাশে ডেটা রাখা

আসলে এটি বড় বড় ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত থাকে।

২০. চাল ভেজা ফোন ঠিক করে

এটি কার্যকর নয়, বরং ক্ষতি করতে পারে।

২১. অ্যাপ বন্ধ করলে ব্যাটারি বাঁচে

বরং বারবার অ্যাপ চালু করলে বেশি ব্যাটারি খরচ হয়।

২২. বিদেশে নেটফ্লিক্স দেখা যায় না

ভিপিএন বা অন্য উপায়ে অনেক সময় দেখা সম্ভব।

২৩. ডার্ক ওয়েব মানেই অবৈধ

সবসময় নয়। এটি অনেক সময় গোপনীয় যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।

২৪. কুকি ক্লিয়ার করলে বিমানের সস্তা টিকিট পাওয়া যায়

এটি একটি মিথ। দাম নির্ধারণ হয় চাহিদা অনুযায়ী।

প্রযুক্তি সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই শোনা কথায় বিশ্বাস না করে যাচাই করা জরুরি। আপনি যদি সচেতন থাকেন, তাহলে প্রযুক্তি হবে আপনার শক্তি—ঝুঁকি নয়।