এআই চিপ রপ্তানিতে চীনের ১০ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
এআই চিপ রপ্তানিতে চীনের ১০ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন

বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি এনভিডিয়ার জন্য একটি বড় বাজার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মার্কিন সরকার আলিবাবা ও টেনসেন্টসহ চীনের অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানকে উন্নত এআই চিপ ‘এইচ২০০’ কেনার অনুমতি দিয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের প্রেক্ষাপট

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে এই ব্যবসায়িক অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা করছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং।

অনুমোদন মিললেও সরবরাহ শুরু হয়নি

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত একটি চিপও চীনে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি, যা এই ঐতিহাসিক প্রযুক্তি চুক্তিটিকে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় আলিবাবা ও টেনসেন্ট ছাড়াও রয়েছে বাইটড্যান্স এবং জেডি ডটকমের মতো টেক জায়ান্টরা। এ ছাড়া লেনোভো এবং ফক্সকনকে এই চিপ সরবরাহের পরিবেশক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লাইসেন্সের শর্ত

লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি অনুমোদিত গ্রাহক সরাসরি এনভিডিয়া বা অনুমোদিত পরিবেশকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার পর্যন্ত চিপ কিনতে পারবে।

এনভিডিয়ার বাজার হারানোর প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, এক সময় চীনের উন্নত চিপ বাজারের ৯৫ শতাংশ এনভিডিয়ার দখলে ছিল। বর্তমানে মার্কিন রপ্তানি বিধিনিষেধের কারণে সেই আধিপত্য কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় জেনসেন হুয়াং সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হয়ে বেইজিংয়ে এসেছেন যেন এই আটকে থাকা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করা যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চীনের কড়াকড়ি ও দেশীয় প্রযুক্তির প্রাধান্য

মার্কিন অনুমোদন মিললেও এই চিপ বিক্রি প্রক্রিয়ায় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে নতুন করে কড়াকড়ি ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। চতুর্থ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, চীন সরকার বর্তমানে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় এআই চিপ শিল্পের বিকাশকে প্রাধান্য দিচ্ছে। হুয়াওয়ের মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি চিপের ব্যবহার বাড়াতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আমদানির চেয়ে নিজেদের প্রযুক্তির দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

বেইজিংয়ের আশঙ্কা

এ ছাড়া বেইজিংয়ের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নত চিপ আমদানি করলে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকও সম্প্রতি এক শুনানিতে জানান, চীন সরকার নিজ দেশের শিল্পকে সুরক্ষার জন্য এখনই এই চিপগুলো কেনার অনুমতি দিচ্ছে না।

উভয় পক্ষের জটিল শর্ত

এই চিপ বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় পক্ষই অত্যন্ত জটিল কিছু শর্ত আরোপ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে যার মাধ্যমে এই চিপ বিক্রির মোট রাজস্বের ২৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে। এই আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য চিপগুলোকে প্রথমে মার্কিন ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা চীনের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নিরাপত্তা ও গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কা

তাদের ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় চিপের ভেতর গোপন কোনো ত্রুটি বা নজরদারি ব্যবস্থা ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন কট্টরপন্থীদের দাবি, চীনকে এই চিপ দেওয়া হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব ক্ষুণ্ন হতে পারে। বর্তমানে দুই পরাশক্তির প্রযুক্তিগত লড়াইয়ের মাঝে পড়ে এনভিডিয়ার এই বিশাল বাণিজ্য এখন কূটনীতির মারপ্যাঁচে আটকা পড়ে আছে।

সূত্র: রয়টার্স