এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও বানিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র
এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও বানিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারকরা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে এক প্রবাসী স্বামীর ইমু (Imo) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে স্ত্রীর কাছ থেকে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।

প্রতারক চক্রের কৌশল

স্বামীকে পুলিশে ধরার নাটক সাজিয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে দফায় দফায় এ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি। এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার প্রবাসীর স্ত্রী রুজিনা আক্তার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগীর বর্ণনা

ভুক্তভোগী রুজিনা আক্তার জানান, তার স্বামী দীর্ঘ দিন ধরে প্রবাসে কর্মরত আছেন। গত ১ মে হঠাৎ করেই তার স্বামীর ইমু অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে প্রতারক চক্র। এরপর ইমু থেকে তাকে জানানো হয় যে, তার স্বামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুধু তাই নয়, সত্যতা প্রমাণ করতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে হুবহু স্বামীর অবয়ব ও কণ্ঠস্বর নকল করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও পাঠানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টাকা আদায়ের প্রক্রিয়া

ভিডিও দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রুজিনা। চক্রটি স্বামীকে পুলিশ থেকে মুক্ত করার কথা বলে প্রথমে ৬৩ হাজার টাকা দাবি করে। স্বামীকে বিপদ থেকে বাঁচাতে রুজিনা সরল বিশ্বাসে প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে দুই দফায় ৬৩ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।

এরপর স্বামীকে ছাড়ানোর কথা বলে আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। নিরুপায় হয়ে রুজিনা তিন দফায় সেই এক লাখ টাকাও বিকাশের মাধ্যমে পাঠান। পরবর্তীতে একইভাবে আরও এক লাখ টাকা দাবি করলে তাও পরিশোধ করেন তিনি। এভাবে মোট ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর প্রতারক চক্রটি হুট করে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

সত্যতা জানার পর মামলা

পরে রুজিনা তার স্বামীর খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তিনি সুস্থ ও নিরাপদে আছেন এবং পুরো বিষয়টি প্রতারণামূলক একটি সাজানো নাটক ছিল। এরপর তিনি মামলা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ

এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। চক্রটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং টাকা উদ্ধারে পুলিশ ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।