বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি (ঋণপত্র) এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত দলিলপত্র ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে। বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়।
পাইলট প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য
এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানিকারকরা ডিজিটালভাবে দলিল জমা দিতে, প্রেরণ করতে এবং যাচাই করতে পারবেন। অনুমোদিত আন্তর্জাতিক ট্রেড করিডোরের মাধ্যমে ডিজিটাল বিনিময় ও যাচাইকরণ কার্যকর হবে।
সিস্টেমটি ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ইউআরসি) এবং ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিটস (ইউসিপি) এর ইলেকট্রনিক সংস্করণের মতো আন্তর্জাতিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে।
ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ড
প্রকল্পে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ড ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে, যা নির্ধারিত মান পূরণ করলে কাগজের দলিলের বৈধ বিকল্প হিসেবে স্বীকৃত হবে। কাঠামোটি আন্তঃঅপারেবিলিটি, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা, তথ্য সুরক্ষা এবং বিকেন্দ্রীভূত যাচাইকরণের ওপর জোর দেয়।
অংশগ্রহণের শর্ত
অংশগ্রহণে আগ্রহী অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে। আবেদনে ট্রেড করিডোর, প্রতিপক্ষ, লেনদেনের ধরন এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
সিস্টেমটি ইনভয়েস, পরিবহন দলিল এবং ড্রাফটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য দলিলের ইলেকট্রনিক হ্যান্ডলিং সমর্থন করবে। তবে, যদি কোনো অংশীদার দেশে ডিজিটাল দলিল আইনত স্বীকৃত না হয়, তাহলে ব্যাংকগুলো কাগজের দলিল চাইতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কেন্দ্রীয় ব্যাংক অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনক্রিপশন, প্রমাণীকরণ এবং অডিট ট্রেইলসহ শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে।
পাইলট প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। ভবিষ্যতে সম্প্রসারণ কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন এবং নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করবে। পাইলট চলাকালে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা বলবৎ থাকবে।



