মালয়েশিয়ায় চতুর্থ ডেটা সেন্টার নির্মাণে ইকুইনিক্সের ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ
বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ইকুইনিক্স ইনকরপোরেটেড মালয়েশিয়ায় তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে নতুন ডেটা সেন্টার ‘কেএল-২’ নির্মাণে ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।
নতুন এ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় ক্লাউড সেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ব্যবসায়িক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং দ্রুতগতির ডিজিটাল সংযোগের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এটি দেশটির ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন ডেটা সেন্টারের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য
প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান ডেটা সেন্টার ‘কেএল-১’-এর এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে সাইবারজায়ায় নতুন ‘কেএল-২’ ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানকারী, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। কেএল-২ হবে মালয়েশিয়ায় ইকুইনিক্সের চতুর্থ ডেটা সেন্টার। এর আগে কুয়ালালামপুর ও জোহরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অবকাঠামো কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাশাপাশি জোহরে জেএইচ-১ ও জেএইচ-২ নামের আরও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, নতুন ডেটা সেন্টারটি পুরোপুরি চালু হলে সেখানে দুই হাজার ২০০টির বেশি তথ্য সংরক্ষণ ক্যাবিনেট সুবিধা থাকবে, যা বৃহৎ পরিসরের তথ্য সংরক্ষণ ও ডিজিটাল সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য
ইকুইনিক্স মালয়েশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিয়াম তাত ইন বলেন, এ সম্প্রসারণ মালয়েশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, কুয়ালালামপুর ও জোহরে দায়িত্বশীলভাবে এআই-প্রস্তুত অবকাঠামো গড়ে তুলে আমরা জাতীয় এআই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করছি। কেএল-২ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দ্রুতগতিতে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বিকেন্দ্রীভূত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে এটি উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রযুক্তিগত সুবিধা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন এ ডেটা সেন্টার কম বিলম্বযুক্ত, উচ্চ সংযোগ সক্ষমতা এবং সম্প্রসারণযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো সুবিধা প্রদান করবে। এর ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন ও সিস্টেমের ওপর চাপ কমবে এবং ব্যবসাগুলো আরও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সেবা পাবে। এছাড়া ডিজিটালভিত্তিক কোম্পানি, বৃহৎ প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আসিয়ান অঞ্চলে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারবে। বিকেন্দ্রীভূত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সমন্বিত ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য আরও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে মালয়েশিয়া আসিয়ান অঞ্চলে ডিজিটাল উদ্ভাবন ও এআই প্রযুক্তির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। দেশটির সরকার ইতোমধ্যে ন্যাশনাল এআই অফিস (এনএআইও) এবং মাইডিজিটাল উদ্যোগের মতো বিভিন্ন কৌশলগত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে।
বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ
নতুন কেএল-২ ডেটা সেন্টারটি ইকুইনিক্সের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গেও যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার কেএল-১, কেএল-২ ও জেএইচ-১ ডেটা সেন্টার সিঙ্গাপুরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান ক্যাম্পাসের সঙ্গে ইকুইনিক্স ফ্যাব্রিকের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে। বর্তমানে ইকুইনিক্স বিশ্বব্যাপী ৩৬টি দেশে ৭৭টি বাজারে ২৮০টির বেশি ডেটা সেন্টার পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১০ হাজার ৫০০টিরও বেশি শীর্ষ কোম্পানির ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমে সহায়তা দিচ্ছে।



