ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করেছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) চারটি নতুন ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
নতুন ক্যামেরা উদ্বোধন
তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের অধীন লেক রোডে একটি এআই ক্যামেরা উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি ধীরে ধীরে শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।
এআই ক্যামেরায় মামলা ও জরিমানা
কমিশনার জানান, এআই ক্যামেরা ব্যবহার করে এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ ট্রাফিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ ভিন্ন হওয়ায় মোট আদায়কৃত জরিমানার পরিমাণ সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য ট্রাফিক বিভাগের কাছে রয়েছে।
নোটিশ পাঠানোর পদ্ধতি
এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক মামলার ক্ষেত্রে মোবাইল মেসেজ এবং ডাকযোগেও নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের নির্ধারিত নম্বর থেকে এসএমএস নোটিশ পাঠানো হয় এবং ডিএমপি ট্রাফিক পোর্টাল ও ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গাড়ি বিক্রির পর মালিকানা হস্তান্তর না হলে পূর্ববর্তী মালিকের কাছে নোটিশ যাওয়া প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮,০০০ সমন জারি করা হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইস্যু
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব যানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে সব অপসারণ সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি এ বিষয়ে নীতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। সমন্বিত সিদ্ধান্তের আলোকে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপনের ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অভূতপূর্ব ও দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। চালকদের মধ্যে লেন মেনে চলা ও ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাফিক ডাইভারশন ও আধুনিক সিগন্যাল লাইটের সমন্বয়ে ঢাকাকে আধুনিক ও স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। আমরা এই গতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কঠোর, প্রযুক্তি-ভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।



