ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেসের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কোচগুলো উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা কাজ করেন। বুধবার (২৫ জুন) রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার কার্যক্রম ও ট্রেন চলাচল
গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে লাইনচ্যুত তিনটি কোচ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলের রেললাইন মেরামতের কাজ চলছে। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বিজয় এক্সপ্রেসের পরিচালক মাসুদ মিয়া জানান, ট্রেনটি রাত ১০টা ২২ মিনিটে গৌরীপুর জংশনে প্রবেশ করে এবং রাত ১০টা ৪২ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। স্টেশন ত্যাগের মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পেছনের তিনটি কোচ লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটির গতি তখন কম ছিল। চালক দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও আহত
ট্রেনের যাত্রী ইফতেখার ইসলাম জানান, তিনি দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি কোচের মধ্যে দ্বিতীয় কোচে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ ও ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জীবন বাঁচাতে এবং মালামাল নিয়ে দ্রুত কোচ থেকে নেমে যান। আরেক যাত্রী নেওয়াজ আলী বলেন, পেছনের কোচগুলো থেকে নামার সময় হুড়োহুড়ি ও ঝাঁকুনিতে সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুর অবস্থা গুরুতর ছিল। স্বজনরা বলেন, তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবে।
পুলিশের ভূমিকা
গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করে। পাশাপাশি যাত্রীদের মালামাল নিরাপদ রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।



