বিকেএমইএর সতর্কতা: সংশোধিত শ্রম আইনে বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, শিল্পে অসন্তোষের আশঙ্কা
নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সতর্ক করে দিয়েছে যে, সংশোধিত শ্রম আইনের কিছু ধারায় এখনও বিভ্রান্তি রয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শ্রম অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। তবে, সংগঠনটি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬-কে স্বাগত জানিয়েছে।
বিগত সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনায় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে আইনের কিছু ধারায় কৌশলে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি তৈরি করার অপচেষ্টা করেছিল। এই পদক্ষেপ শিল্প খাতে দীর্ঘ মেয়াদে শ্রম অসন্তোষের বীজ বপন করেছে বলে সংগঠনটি মনে করে।
এতে শিল্পকারখানা ও শ্রমিক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এবং বিদেশি ক্রেতাগোষ্ঠীর মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছিল।
বর্তমান সরকারের সংশোধন ও অবশিষ্ট বিভ্রান্তি
বর্তমান নির্বাচিত সরকার সংশোধিত শ্রম আইনের কিছু ধারা সংশোধন করে পাস করলেও, কিছু জায়গায় এখনো বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। এই বিভ্রান্তি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং শ্রম অসন্তোষ তৈরি করতে পারে বলে বিকেএমইএ উল্লেখ করেছে।
ফলে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিল্পকারখানায় শান্তিপূর্ণ উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, পরবর্তী শ্রমবিধি সংশোধন এবং আইন সংশোধনের সময় ওই সব অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি দূর করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছে সংগঠনটি।
অসৎ শ্রম আচরণের শাস্তির বিধানকে স্বাগত
বিকেএমইএ শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধানকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে, সংগঠনটি আরও কঠিন শাস্তির বিধান রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
যদি কোনো শ্রমিক নামধারী ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ও আইনবহির্ভূত দাবি নিয়ে শিল্পকারখানায় দাঙ্গাহাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিম্মি করে মারধর, অবৈধ ধর্মঘট বা অন্য শ্রমিকদের কাজে বাধা প্রদান করে, তাহলে সেটাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে আরও কঠিন শাস্তির বিধান রাখা উচিত বলে বিকেএমইএ মনে করে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাদের প্রতি আহ্বান
বিকেএমইএ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যারা বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার ও সংশোধনীতে নির্দেশনামূলক ভূমিকা রেখেছে। তাদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাগোষ্ঠী বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের ন্যায্যমূল্য ও নৈতিক মূল্য দিচ্ছে কি না, সেই ব্যাপারেও যেন তদারকি ও নজরদারি করা হয়।
তা না হলে, দিনশেষে শিল্পকারখানা ও শ্রমিক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সংগঠনটি সতর্ক করেছে।



