সরকার ২০টি পাটকল লিজ দিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকার বন্ধ পাটকল চালু করে কর্মসংস্থান বাড়াতে ও অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে কাজ করছে।” প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, “সরকার ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দিতে কাজ করছে। যার মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।”
সাক্ষাৎ ও দাবি উপস্থাপন
রবিবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাঈদ আল নোমানের নেতৃত্বে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতকালে পাট শ্রমিক দলের আট দফা দাবি জানায়।
প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
এর প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পাটকল ও পাট শ্রমিকদের নিয়ে আপনাদের দাবিগুলো সামনে বিবেচনা করে দেখবো। বিগত সরকারের আমলে এই খাতে মনোযোগ দেওয়া হয়নি। আপনাদের বাস্তবায়নযোগ্য দাবিগুলো পূরণে আমরা দ্রুতই কাজ করবো।”
পাট শ্রমিক দলের আট দফা দাবি
পাট শ্রমিক দলের আট দফা দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো:
- রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পাটকলগুলো চালু করা
- পলিথিনের কাঁচামাল আমদানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা
- পাটকে কৃষি শিল্প হিসেবে শিল্প সুবিধাদি দেওয়া
- পাটকল শ্রমিকদের বিধিগত সমুদয় পাওনা পরিশোধ
- মিলগুলোর মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া থেকে সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া
অর্থনৈতিক প্রভাব
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাটকলগুলো চালু হলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, পাট শিল্পের উন্নয়নে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোও এই লিজ প্রক্রিয়ার অন্যতম লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “এই পদক্ষেপটি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পকে টিকিয়ে রাখারও একটি প্রচেষ্টা।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে পাটকলগুলো আরও দক্ষতার সাথে পরিচালিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়বে।



