বিসিকের জামদানি ও কারুপণ্য মেলা-২০২৬ সফলভাবে সমাপ্ত
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক জামদানি ও কারুপণ্য মেলা-২০২৬’ আজ ১৪ মার্চ শেষ হয়েছে। মেলাটি ১০ মার্চ থেকে শুরু হয়ে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।
মেলায় অংশগ্রহণ ও স্টলের সংখ্যা
এই আয়োজনে জামদানিসহ অন্যান্য পোশাক ও কারুপণ্য নিয়ে মোট ১০০টি স্টল অংশ নিয়েছে। মেলাটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে জামদানি শিল্পের সৌন্দর্য ও গুণগত মান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
উদ্বোধনী সেমিনার ও বিশেষ আকর্ষণ
মেলার প্রথম দিনে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘এনহান্সিং ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিটিভনেস অব জিআই জামদানি থ্রু ব্র্যান্ডিং, কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স অ্যান্ড ডিজিটাল মার্কেটিং’। এই সেমিনারে জামদানি শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলকতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেমিনার শেষে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। তার উপস্থিতিতে মেলাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মেলার উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব
এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জামদানি শিল্পকে ব্র্যান্ডিং, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল বিপণনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। বিসিকের এই উদ্যোগ স্থানীয় কারুশিল্পীদের জন্য একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যেখানে তারা তাদের পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে উপস্থাপন করতে পেরেছে।
মেলাটি শুধু পণ্য বিক্রির জন্য নয়, বরং জামদানি শিল্পের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রচারেরও একটি মাধ্যম ছিল। দর্শনার্থীরা এখানে বিভিন্ন ধরনের জামদানি পোশাক, অ্যাকসেসরিজ এবং অন্যান্য কারুপণ্য দেখার ও কেনার সুযোগ পেয়েছেন।
বিসিকের এই আয়োজন দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতের উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মেলা শেষ হলেও এর প্রভাব ও সাফল্য আগামী দিনগুলোতে জামদানি শিল্পের বিকাশে অবদান রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
