ব্র্যাক ব্যাংক, অলিম্পিক ও সিটি ব্যাংকের শেয়ারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের পতন ঠেকেছে
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ রোববার সূচকের পতন ঠেকাতে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিটি ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬৮ পয়েন্টে, যা বাজারের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
সূচকের উত্থান-পতন ও কোম্পানিগুলোর ভূমিকা
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকার বাজারে লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। একপর্যায়ে ডিএসইএক্স সূচকটি আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২৩ পয়েন্ট কমে যায়, কিন্তু তখনই ব্র্যাক ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিটি ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি এই পতন থামিয়ে দেয়। বিশেষ করে, ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের দাম এক দিনেই প্রায় ৪ টাকা বা সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ৬০ পয়সায়, যেখানে গত বৃহস্পতিবার এটি ছিল ৮৩ টাকা।
এ ছাড়া, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিটি শেয়ারের দাম বাড়ে ৪ টাকা ৬০ পয়সা বা ৩ শতাংশ, এবং সিটি ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৩০ পয়সা বা ১ শতাংশ। এই তিন কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি সম্মিলিতভাবে ডিএসইএক্স সূচকটি প্রায় ১৯ পয়েন্ট বাড়াতে সাহায্য করেছে, যার মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের ৪ টাকা মূল্যবৃদ্ধিতেই সূচকটি সর্বোচ্চ ১৫ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে।
বাজারের অবস্থা ও লেনদেনের পরিসংখ্যান
ঢাকার বাজারে আজ রোববার মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৪টির দরপতন হয়েছে, ১২৩টির দাম বেড়েছে, এবং ৭১টির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে। বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনের পরও সূচকটি দিন শেষে ইতিবাচক ধারায় ছিল, মূলত উল্লেখিত কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে।
লেনদেনের দিক থেকে, ব্র্যাক ব্যাংক প্রায় ২৪ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক প্রায় ২০ কোটি টাকা, এবং অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ৩৯ কোটি টাকার শেয়ারের হাতবদল হয়েছে। এই তিন কোম্পানির সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৩ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ১৫ শতাংশ। দিন শেষে ঢাকার বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬৮ কোটি টাকা।
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন যে, সামনে ব্যাংক খাতের শেয়ারের বছর শেষের লভ্যাংশের ঘোষণা আসবে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। আগামী মাস থেকে ব্যাংকগুলো গত বছরের আর্থিক হিসাবের ভিত্তিতে শেয়ারধারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু করবে, ফলে ভালো ব্যাংকের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত বছরের প্রথম ৯ মাসের হিসাবে, দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে মুনাফায় শীর্ষে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, এরপর সিটি ব্যাংকের অবস্থান, যা এ দুটি ব্যাংককে লেনদেনের শীর্ষে জায়গা করে নিতে সাহায্য করেছে। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের শেয়ার কেনার ঘোষণার পরও কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে, যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি ও লেনদেন উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূচকের পতনের অন্যান্য কারণ
লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে আজ সূচকের পতনের পেছনে যে কয়টি কোম্পানি বড় ভূমিকা রেখেছে, তার মধ্যে শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৪ টাকা বা দেড় শতাংশের বেশি কমে দিন শেষে নেমে আসে ২২৪ টাকায়, যাতে ডিএসইএক্স সূচকটি ৭ পয়েন্টের বেশি কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে, ব্র্যাক ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিটি ব্যাংকের শেয়ারের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
