চট্টগ্রাম বন্দরে ভুয়া নথিপত্রে কন্টেইনার পাচার চেষ্টা ব্যর্থ, তদন্ত চলছে
চট্টগ্রাম বন্দরে ভুয়া নথিতে কন্টেইনার পাচার চেষ্টা ব্যর্থ

চট্টগ্রাম বন্দরে ভুয়া নথিপত্রে কন্টেইনার পাচারের অপচেষ্টা ব্যর্থ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে একটি কন্টেইনার পাচারের অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বন্দর সূত্র থেকে জানা গেছে, একটি কন্টেইনার ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল, যা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে গোপন সংবাদের মাধ্যমে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জে এস ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ভুয়া অন-চেসিস অনুমতিপত্র, চালান ও গেট পাস ব্যবহার করে এনসিটি ব্যাকআপ ইয়ার্ড থেকে একটি ট্রেইলারে কন্টেইনারটি তোলা হয়। কন্টেইনারটির এজেন্ট ছিল কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স, রোটেশন নম্বর ২৫/৩৮৭১ এবং ভেসেল ‘স্বদেশী চিটাগাং’। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফাহিম এটেয়ার অ্যান্ড কম্পোজিট লিমিটেডের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে চট্টমেট্রো-ঢ-৮১-২৩৬৪ নম্বরের ট্রেইলারটি সিপিএআর গেট দিয়ে বন্দর এলাকা ত্যাগ করে। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগ দ্রুত গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং একপর্যায়ে কন্টেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রম

পরবর্তীতে একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরের হালিশহর বারনীঘাট এলাকায় শাহজালাল ট্রাক টার্মিনালের পাশে অবস্থিত বিএমডি সাইফুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামের একটি গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ট্রেইলারসহ কন্টেইনারটি আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় পাচারের সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যায়, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কন্টেইনারটিতে কী ধরনের পণ্য ছিল তা নিয়ে এখনও কোনও তথ্য দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। তদন্তের পর পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি বন্দর থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে, যা আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

এই ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপচেষ্টা রোধে কর্তৃপক্ষের সতর্কতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।