বাংলাদেশ FY26 সালে ৩৫.৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের ঐতিহাসিক রেকর্ড অর্জন করেছে। এই অসাধারণ অর্জন দেশের অর্থনীতির জন্য একটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছে, যা লক্ষ লক্ষ প্রবাসী কর্মীর ঘাম ও ত্যাগের ওপর নির্মিত। তাদের আয় বছরের পর বছর ধরে শুধু পরিবারকে টিকিয়ে রাখেনি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে স্থিতিশীল করেনি, বরং দেশের প্রবৃদ্ধির গল্পকে বাঁচিয়ে রাখার শক্তিশালী অধ্যায় হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।
উদযাপনের পাশাপাশি বাস্তব সমর্থনের প্রয়োজন
তবে দুর্ভাগ্যজনক যে, এখনও তাদের অবদান প্রায়শই শিরোনামে উদযাপিত হয় কিন্তু যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে উপেক্ষিত হয়। প্রতিটি ডলার বাড়িতে পাঠানোর পেছনে রয়েছে কষ্টের গল্প—দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নিরাপত্তাহীন পরিবেশ এবং প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কাজ করা শ্রমিকদের গল্প। অনেকেই বিদেশে শোষণের শিকার হন, অন্যদিকে তাদের পরিবার দেশে আমলাতান্ত্রিক বাধা এবং অপর্যাপ্ত সমর্থনের সাথে লড়াই করে।
রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ উদযাপনের কারণ এবং তাদের স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ হলেও, স্থিতিস্থাপকতাকে অবহেলা মেনে নেওয়ার ভুল বোঝানো উচিত নয়। বাংলাদেশকে অবশ্যই গভীরভাবে দেখতে হবে যে তার প্রবাসী কর্মীদের সাথে কীভাবে আচরণ করা হয় এবং নিশ্চিত করতে হবে যে সমর্থন শুধু বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও জাতীয় দায়িত্ব
প্রবাসীদের জন্য কল্যাণ সেবা সম্প্রসারণ, হোস্ট দেশগুলোর সাথে শক্তিশালী শ্রম সুরক্ষা চুক্তি আলোচনা এবং নির্যাতিত শ্রমিকদের আইনি সহায়তা প্রদানের মতো পরিচিত পদক্ষেপের বাইরেও, আমাদের জাতিকে সম্মিলিতভাবে এই সম্প্রদায়ের অবদানকে সম্মান করতে শিখতে হবে। রেমিট্যান্স দান নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমের উপার্জন, এবং যারা এটি অর্জন করে তারা আমাদের সম্মান, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে প্রাপ্য।
রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ একটি মাইলফলক, কিন্তু একই সাথে এটি একটি জাগরণ কলও বটে। আমাদের অর্থনীতি এখনও বিদেশে আমাদের কর্মীদের কাঁধের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই তাদের সমর্থন করা একটি জাতীয় দায়িত্ব।



