দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা, ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা, ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

দেশে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের কিছু বেশি সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মে মাসের প্রথম ছয় দিনে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ থেকে ৬ মে পর্যন্ত মাত্র ছয় দিনেই দেশে এসেছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। একই সময়ে গত বছর এসেছিল ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসাবে মে মাসের প্রথম ছয় দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৩ শতাংশ।

এর মধ্যে শুধু ৬ মে একদিনেই এসেছে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থবছরের রেমিট্যান্স পরিসংখ্যান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৬ মে ২০২৬ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ বিলিয়ন ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২৫ বিলিয়ন ১৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক হওয়া, ব্যাংকিং চ্যানেলে নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানোর ফলে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে বড় সহায়তা করছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটানো, টাকার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ এবং চলমান বৈদেশিক লেনদেনের চাপ মোকাবিলায়ও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অর্থবছরের বাকি সময়েও যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে বছর শেষে রেমিট্যান্স নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।