ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সার্জিস আলমসহ অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দাবি করে, ফ্রিল্যান্সার বা প্রবাসী আয়ের ওপর এমন কর কর্তনের কোনো বিধান নেই।
সার্জিস আলমের পোস্ট ও প্রশ্ন
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ফেসবুকে সার্জিস আলম লেখেন, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর প্রস্তাবিত সাড়ে ৭ শতাংশ কর আরোপ করা হবে না। কিন্তু তারপরও অনেকের ব্যাংক হিসাব থেকে সেই হারে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ আসছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানা হচ্ছে না? নাকি এখনও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি? নাকি কার্যকর হবে না?” সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
পোস্টের সঙ্গে সার্জিস আলম একটি ব্যাংক লেনদেনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায়, ‘এনওয়ার্ড কমার্শিয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে ২৩ হাজার ১৫০ টাকা ৭৯ পয়সা জমা হওয়ার পর ‘ডেবিট ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স’ শিরোনামে ১ হাজার ৭৩৬ টাকা ৩১ পয়সা কেটে নেওয়া হয়েছে— যা মোট অর্থের প্রায় ৭.৫ শতাংশ।
সার্জিস আলম আরও বলেন, যারা ফ্রিল্যান্সিং বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তাদের ওপর এমন কর আরোপ সমর্থনযোগ্য নয়। তবে উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।
এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, “ফ্রিল্যান্সার ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর থেকে কর কর্তনের কোনো বিধান নেই। এ তথ্য সম্পূর্ণ ভুল।” বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “কর-সংক্রান্ত বিষয় নির্ধারণ করে এনবিআর। ফ্রিল্যান্সার বা রেমিট্যান্স আয়ের ওপর এমন কর কর্তনের কোনো নির্দেশনার কথা আমি কখনও শুনিনি।”
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর প্রস্তাবিত ৭.৫ শতাংশ কর আরোপ না করার আশ্বাস দেন। গত ১ জুন সচিবালয়ে ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানার সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন। জুয়েল রানা জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি চাই তরুণরা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে যাক, আন্তর্জাতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকুক। তারা বিদেশ থেকে অর্থ দেশে নিয়ে আসছে, সেটাই যথেষ্ট। ফ্রিল্যান্সাররা দেশের জন্য বড় ভূমিকা রাখে। তাদের ওপর বোঝা চাপানো উচিত নয়।”
তবে জুয়েল রানার বক্তব্যের বিষয়ে সরকার বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা জারি হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট ও কর কর্তনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেছেন ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।



