শুক্রবার (২৬ জুন) পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনও লক্ষণ নেই। মাছ, মুরগি আর সবজির উচ্চমূল্যের কারণে মাসিক বাজেট ধরে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে এসে এখন আগে দাম দেখি, তারপর কী কিনবো ঠিক করি। অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্যও বাদ দিয়ে ফিরতে হয়।’
সবজির দাম চড়া, ক্রেতারা স্বস্তি পাচ্ছেন না
আরেক ক্রেতা রোকসানা বেগম বলেন, ‘আগে অন্তত সবজি কিনে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতো, কিন্তু এখন সেই সুযোগও নেই। প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেশি। সংসারের বাজেট সীমিত, তাই ইচ্ছা থাকলেও প্রয়োজনমতো সবজি কেনা যাচ্ছে না। প্রতিদিন বাজারে এসে হিসাব কষেই কেনাকাটা করতে হচ্ছে।’
এ সপ্তাহে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকলেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। সপ্তাহের ব্যবধানে বড় কোনও পরিবর্তন না এলেও মাছ, মুরগি ও অধিকাংশ সবজির উচ্চমূল্য বহাল রয়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে বাজার করতে হচ্ছে।
সবজির বাজার: ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজিই ৫০ থেকে ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। গোল আলু, টমেটো, গোল বেগুন, লম্বা বেগুন, করলা, পটল, লাউ, কাঁচা পেঁপে, শসা, গাজর, ফুলকপি, বরবটি, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙ্গা, কচুর লতি, ঢ্যাঁড়শ এবং বিভিন্ন ধরনের শাকের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে।
বর্তমানে ঢ্যাঁড়শ, পটল, ঝিঙ্গা, করলা ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচকলা হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা এবং শিম ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
পাইকারি দাম কমেনি, খুচরা পর্যায়ে প্রভাব
নারিন্দা কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা মমিন মিয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে পাইকারি দামও খুব একটা কমেনি। তাই খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’ মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঙাস মাছ কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, কাতলা আকারভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা আকারভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ছোট কাঁচকি মাছ ৩০০ টাকা এবং মলা মাছ ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়েও সামুদ্রিক মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। বড় সাইজের সুরমা মাছ ৩০০ টাকা, রূপচাঁদা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, লাল কোরাল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বাটা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমছে না
রায়সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা জালাল মিয়া বলেন, ‘নদীর মাছের সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে, তবে পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ক্রেতারা এখন বড় মাছের বদলে ছোট আকারের মাছ বেশি কিনছেন।’
মুরগি ও ডিমের দাম স্থিতিশীল
এ সপ্তাহে বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকা, লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের বাজার রয়েছে আগের মতোই। খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের ডজন ১২০ টাকা করে গত সপ্তাহের মতোই বিক্রি হচ্ছে।



