বাংলাদেশে সোনার দামে এক দিনে দ্বিগুণ বৃদ্ধি, ভরিতে বাড়ল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক দিনে দুবার সোনার দাম বাড়িয়ে বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গতকাল শুক্রবার দাম কমানোর পর আজ শনিবার সকালে প্রথম দফায় এবং বিকেলে দ্বিতীয় দফায় দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই দুটি ধাপে মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম।
নতুন মূল্য তালিকা ও কার্যকর সময়
বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন দাম আজ বেলা ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে: ২১ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা। এই দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববাজারের প্রভাব ও কারণ বিশ্লেষণ
বাজুসের মতে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, তবে মূল কারণ হলো বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধি। নিউইয়র্কের স্থানীয় ২৭ মার্চ স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১১০ ডলার বেড়ে ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৭৯৫ ডলার কমলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ—এই সমস্ত কারণ মিলিয়ে সোনার দামে দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত জানুয়ারিতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, যার প্রভাবে দেশের বাজারে গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
সাম্প্রতিক প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সোনার দাম কমতে শুরু করলেও, সাম্প্রতিক বৃদ্ধি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ১২ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৬ দিনে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমানো হয়েছিল, কিন্তু আজ দুই দফায় দাম বাড়ার ফলে সামগ্রিকভাবে ১২ মার্চের পর সোনার দাম কমেছে ভরিপ্রতি ২৮ হাজার ৯৮৫ টাকা। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বিশ্ববাজারের গতিবিধির উপর নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।



