রাজধানীর বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়লেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি
রাজধানীতে সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়লেও সংকট কাটেনি

রাজধানীর বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়লেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি

ঢাকার বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ গত কয়েক দিনে আগের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজারে তেলের সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা। কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট এবং চন্দ্রিমা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা এক দোকানে তেল না পেলে অন্য দোকান ঘুরে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন।

বাজারের হালচাল: সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা পূরণ হচ্ছে না

বিক্রেতাদের মতে, গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে বিপণনকারী কোম্পানিগুলো বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়িয়েছে। মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার কাঁচাবাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ২০০ টাকায়। এছাড়া, চারটি দোকানের মধ্যে তিনটিতেই বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে। পুষ্টি, তীর এবং গৃহিণী ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে। ২ লিটারের বোতলের দাম ৪০০ টাকা ধরা হয়েছে, এবং দোকানিরা বোতলের গায়ে লেখা মূল্যেই তেল বিক্রি করছেন।

তবে মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের বিক্রেতা নূরে আলম অভিযোগ করেন যে চাহিদা অনুযায়ী তেলের সরবরাহ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, "রোজার শুরু থেকেই বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম। এ বাজারে দৈনিক ১০০ কার্টন চাহিদা থাকলে অর্ধেকের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েক দিন সরবরাহ আরও কম ছিল। সোমবার রাত থেকে সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।"

ক্রেতাদের অতিরিক্ত কেনার প্রবণতা সংকট বাড়াচ্ছে

একই বাজারের বিক্রমপুর জেনারেল স্টোরে মঙ্গলবার সকালে নতুন তেলের চালান এসেছে। বিক্রেতা মোতাহার হোসেন জানান, রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের আধা লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল তিনি ২৪ পিস কিনেছেন, প্রতি বোতলের ক্রয়মূল্য ৯৮ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১০০ টাকা। ১ লিটার বোতলের ক্রয়মূল্য ১৯২ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১৯৫ টাকা। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন, যা সংকট কিছুটা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে গত কয়েক দিন তেল সরবরাহ কম থাকলেও মঙ্গলবার সরবরাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। আলী স্টোরের বিক্রেতা রিয়াদ হোসেন বলেন, "এখনো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ১ লিটার ও ২ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও ৫ লিটারের বোতল কম আসছে। দিনে চাহিদা ৪ কার্টন থাকলেও ২ কার্টন তেল পাওয়া যায়।"

দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণ

বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, খোলা তেলের ড্রামপ্রতি দাম ৪০০ টাকা বেড়েছে, যার ফলে লিটারপ্রতি দাম ৪-৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৯৮-২০০ টাকায়, যেখানে গত সপ্তাহে দাম ছিল ১৯৩-১৯৫ টাকা। অন্যদিকে, খোলা পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানান, মাসখানেক ধরেই বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম ছিল, এবং গত সপ্তাহে এই সংকট আরও বেড়ে যায়। সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তুলনামূলক কম পরিমাণে তেল বাজারে আসা।
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আতঙ্কিত হয়ে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কেনা।

ভোজ্যতেল শিল্পের উদ্বেগ এবং সরকারি পদক্ষেপের আহ্বান

সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স গত রোববার বাণিজ্যসচিবকে একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে কোম্পানিগুলো নিজস্ব পরিবহনের অর্ধেক ব্যবহার করতে পারছে না এবং ভাড়া গাড়িও পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বাজারে ভোজ্যতেল সরবরাহ বিঘ্নিত হবে, তাই জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সর্বোপরি, বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা উন্নতি দেখালেও চাহিদা পূরণে এখনো ঘাটতি রয়েছে। বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মতে, সরকারি হস্তক্ষেপ এবং কোম্পানিগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই সংকট দ্রুত কাটানো সম্ভব নাও হতে পারে।