বাজারে স্বর্ণের দাম কমল: ২২ ক্যারেট ভরিতে ৯,২১৪ টাকা হ্রাস
স্বর্ণের দাম কমল: ২২ ক্যারেট ভরিতে ৯,২১৪ টাকা হ্রাস

বাজারে স্বর্ণের দাম কমল: ২২ ক্যারেট ভরিতে ৯,২১৪ টাকা হ্রাস

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশের স্বর্ণ বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার (৭ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমিয়েছে। এই নতুন দাম বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে এবং রোববারও একই হারে স্বর্ণ বিক্রি হবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন দাম নির্ধারণ

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কমানো টানা ৬ দফা দাম বাড়ানোর পর এসেছে, যা বাজারে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমার ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী দাম বৃদ্ধি

এর আগে, বাজুস ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল। গত শনিবারের পর সোমবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি বেড়ে ২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৪ টাকায় দাঁড়িয়েছিল। গত সপ্তাহে দুবার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে দুই দফায় মোট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবারের এক দফায় দাম ৪ হাজার টাকার বেশি বেড়েছিল, যা বর্তমান কমানোর প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এই সমন্বয়গুলোর মধ্যে দাম ২৪ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ১৩ দফা কমানো হয়েছে। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে স্বর্ণ বাজার গত কয়েক মাসে বেশ অস্থিরতা দেখিয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজার ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও সরবরাহের পরিবর্তন, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এই দামের ওঠানামার মূল কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশের স্বর্ণ বাজারের এই গতিবিধি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এটি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বাজুসের এই সিদ্ধান্তে আশা করা যায়, স্বর্ণের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হবে এবং সাধারণ ক্রেতারা আরও সাশ্রয়ী মূল্যে স্বর্ণ ক্রয় করতে সক্ষম হবেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।