জুতা সেলাইয়ের আয়ে সংসার চলে না কাঙ্গাল দাসের
জুতা সেলাইয়ের আয়ে সংসার চলে না কাঙ্গাল দাসের

জুতা সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চলে না কাঙ্গাল দাসের। দুই বেলা কোনো রকম ভাত জুটলেও মাছ, মাংস কেনার সামর্থ নেই তার। চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট এলাকায় গতকাল বিকেল তিনটায় প্রচণ্ড গরমে সড়কের পিচ গলে যাওয়ার দশা। তবে এর মধ্যেও জুতা সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে বসেছেন কাঙ্গাল দাস (৪৫)। স্ত্রী কাজে যাওয়ায় তিন বছর বয়সী মেয়ে মিতু রানি দাসকে সঙ্গে এনেছেন তিনি। গরমে ঘেমে–নেয়ে বাবার কোলে মাথা রেখে ফুটপাতের ওপর ঘুমিয়ে পড়েছে মেয়েটি। ঘুমন্ত মেয়েকে পাশে রেখে কাঙ্গাল দাস অপেক্ষায় থাকেন কেউ ছেঁড়া–ফাটা জুতা–স্যান্ডেল সারাতে আসবেন সেই আশায়।

আয় কমে যাওয়ায় বাড়তি কাজ

কাঙ্গাল দাস জানান, এখন তেমন কাম–কাজ নেই। মানুষ জুতা পলিশ কিংবা সেলাই করতে তেমন আসেন না। জুতা সেলাইয়ে আয় কমে যাওয়ায় তিনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। সেখানে কাজ করে আয় হয় মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো। রাস্তায় বসলে কখনো দিনে ৫০ টাকা, আবার কখনো ২০০ টাকাও আয় হয়।

সংসারের অভাব

কাঙ্গাল দাসের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটগড় গ্রামে। কাজের সন্ধানে ১০ বছর আগে তিনি চট্টগ্রামে আসেন। চার মেয়ে নিয়ে তাঁর ছয় সদস্যের সংসার। বড় মেয়েকে কিছুদিন আগে বিয়ে দিয়েছেন। অভাবের কারণে মেজ মেয়েকে ষষ্ঠ শ্রেণির পর আর পড়াতে পারেননি। এক মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। নগরের হাজি ক্যাম্প এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। ভাড়া দিতে হয় ছয় হাজার টাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাঙ্গাল দাস বলেন, ‘বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সময় অনেক টাকা ঋণ হয়েছে। সে ঋণ এখনো শোধ করতে পারিনি। ওই মেয়ের বিয়ের পর সংসার চালাতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছি। যা উপার্জন করছি, তাতে কুলিয়ে উঠতে পারছি না। নিজের উপার্জনে ঘর ভাড়ার টাকাই ওঠে না। বাধ্য হয়ে স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছে। সে বেতন পায় সাত হাজার টাকা। এটি দিয়েই ঘর ভাড়া দিই। আর আমার টাকা দিয়ে বাজারসদাই করি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্ত্রী চাকরিতে চলে যাওয়ায় ছোট মেয়েকে নিজের সঙ্গে রাখেন কাঙ্গাল দাস। প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দুপুরের খাবার নিয়ে বের হন। গতকাল এনেছিলেন ভাত, আলুভাজি আর অল্প সবজি। কাঙ্গাল দাস বলেন, ‘মাছ–মাংসের দাম বেশি। তাই কিনতে পারি না। দুই সপ্তাহ আগে মাছ দিয়ে ভাত খেয়েছিলাম। মাংস খেয়েছি অনেক আগে। এখন কোনো রকমে ডাল–সবজি খেয়েই চালিয়ে দিচ্ছি। সবজির দামও এখন বাড়তি। এরপরও খেতে তো হবে।’