দেশের বিভিন্ন বাজারে মুরগির দাম বেড়েছে। ব্রয়লার ও সোনালি উভয় প্রজাতির মুরগির কেজিতে বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০-২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজি মানভেদে ৩৫০ থেকে ৪৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা ১৫ দিন আগেও ৩০-৪০ টাকা কেজিতে কম ছিল। খুচরা বাজারে বাড়লেও খামারে কেজিতে অন্তত ১০-১৫ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। অথচ উল্টো চিত্র বাজারে। হঠাৎ এই উল্টো চিত্রের কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মুরগির খামারিরাও।
নারায়ণগঞ্জের খামারে কেজিতে কমেছে ১৫-১৭ টাকা
জেলার মুরগির খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় লোডশেডিং অনেকাংশে কমেছে। ফলে মুরগির উৎপাদন আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। হিটস্ট্রোকে মুরগির মৃত্যুও কমেছে। বন্দর উপজেলার মা-বাবার দোয়া পোলট্রি খামারি জুয়েল মাহমুদ বলেন, ‘১৫ দিন আগের তুলনায় লোডশেডিং অনেকটা কমেছে। তখন দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল, এখন তিন-চার ঘণ্টা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আগের তুলনায় মুরগির উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়া অনেকটা শীতল হয়েছে। ফলে মুরগির হিটস্ট্রোকে মৃত্যুর প্রবণতা কমেছে। ১২০০ মুরগির মধ্যে ৫০টি মারা গেছে। যেখানে ২০ আগেও দুই শতাধিক মুরগি হিটস্টোকে মারা গিয়েছিল। ফলে উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। এতে করে কেজি প্রতি মুরগির দাম ১৫-১৭ টাকা কমে এখন ১৪৮ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গরমে বেশ কয়েকটি সমস্যায় পড়তে হয়। প্রথমত গরমে মুরগি খাবার কম গ্রহণ করে। ফলে ওজন কম হয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। দ্বিতীয়ত মুরগির হিটস্ট্রোক প্রবণতা কমাতে স্প্রে করে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়। কিন্তু তাতে মুরগির ঠান্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সবমিলিয়ে নানা সংকট তৈরি হয় তীব্র গরমে। এখন বৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়া অনুকূলে আছে বলে উৎপাদন বেড়ে দাম কমেছে। কিন্তু এরপরও বাজারে কেন বেড়েছে, তা আমার জানা নেই। মূলত খামারে বাড়লে বাজারে বাড়ার কথা ছিল।’
একই কথা বলেছেন বন্দরের নবীগঞ্জ পোলট্রি ফার্মের খামারি মো. শহীদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘এখন লোডশেডিং অনেকটা কমে যাওয়ায় মুরগির হিটস্ট্রোক প্রবণতা কমেছে। ১৩০০ মুরগির মধ্যে ৭০টি মারা গেছে গত ১৫ দিনে, তার আগের ১৫ দিনে যেখানে ১৫০-২০০টির মতো মুরগি মারা যেতো গরমে। ফলে লোকসানের প্রবণতা কমেছে। এজন্য দাম কমে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি আমরা। যা ১৫ দিন আগেও ১৬০-১৬৫ টাকায় বিক্রি করেছি। তবে এখন বাজারে দাম কমার কথা। অথচ শুনছি ২০০ টাকা।’
লেয়ার মুরগি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছি উল্লেখ করে শহীদ মিয়া বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে লেয়ার মুরগি এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ফলে বিশাল লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেক খামারে এমন হয়েছে। এজন্য ডিমের উৎপাদন কমেছে। ফলে দাম বেড়েছে ডিমের। আবার লোডশেডিং ও খরচ বাড়ায় ডিমের দাম বেড়েছে। ফলে লেয়ার মুরগি পালন বাদ দিয়েছি। এখন শুধু ব্রয়লার পালন করছি।’
রাজশাহীতে মুরগির দাম কমলেও বেড়েছে ডিমের দাম
দুই সপ্তাহ আগে রাজশাহীতে ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের কারণে প্রতিদিনই পোলট্রি খামারের অনেক মুরগি মারা গিয়েছিল। সেইসঙ্গে মুরগির ওজন ও ডিমের সরবরাহ কমে গিয়েছিল। বর্তমানে লোডশেডিং কম ও বৃষ্টিতে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় আগের দুই সপ্তাহের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে পোলট্রি খামারে। এতে করে বর্তমানে হিটস্টোকে মারা যাচ্ছে কম। উৎপাদন বাড়ায় দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। তবে বেড়েছে ডিমের দাম।
নগরীর মোল্লাপাড়া এলাকার খামারি আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার খামার থেকে পাইকারিতে ১৫০ টাকা কেজিতে ব্রয়লার বিক্রি করেছি। সোনালি ২৬৫ থেকে ২৭০ টাকায় পাইকারিতে বিক্রি করেছি। আর সাদা ডিম আট টাকা ও লাল ডিম ৯ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু খুচরা বাজারে দামে এত পার্থক্য কেন, তা আমারও প্রশ্ন। ১৫০ টাকার মুরগি তো ১৯০-২০০ টাকা হতে পারে না। এটা ভয়াবহ অবস্থা। কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি থাকতে পারে। কেজিতে ব্যবসায়ীদের ৪০-৫০ টাকা লাভ করা উচিত নয়।’
বৃহস্পতিবার রাজশাহীর খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর সোনালি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সাদা ডিম ১০ টাকা ও লাল ডিম ১১ টাকায় বিক্রি হয়। যা দুই সপ্তাহ আগে ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি হয়েছিল। রাজশাহী পোলট্রি খামার ব্যবসায়ী এনামুল হক বলেন, ‘আগের চেয়ে মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। কারণ উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তবে ডিমের উৎপাদন কমায় দাম কিছুটা বেড়েছে।’
রাজশাহী পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, ‘লোডশেডিং ও গরমের কারণে মুরগির ওজন কমে গিয়েছিল। সেটার রেশ এখনও রয়ে গেছে। সরকারকে তৃণমূল পর্যায়ের পোলট্রি খামারিদের বাঁচানোর জন্য নজর দিতে হবে। পোলট্রি নীতিমালা আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন নাই। এতে করে ক্ষুদ্র পোলট্রি শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। তা না হলে খামারিদের টিকে থাকা সম্ভব হবে না।’
ময়মনসিংহে কেজিতে দাম কমেছে ১৫ টাকা
তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। তবে সোনালি মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। সদরের গোপালনগর গ্রামের খামারি আল আমিন বলেন, ‘তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে খামারের বেশ কিছু ব্রয়লার মুরগি মরে গেছে। এর পাশাপাশি মুরগির দাম কেজিতে বেশ কিছু কমে গেছে। এক সপ্তাহ আগে পাইকারিতে এক কেজি ব্রয়লার ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এই সপ্তাহে ১২৫ টাকায় বিক্রি করেছি। অথচ বাজারে ১৮০-১৯০ টাকায় খুচরায় বিক্রি হচ্ছে। লস আমাদেরই।’
তিনি বলেন, ‘গত এক মাস ধরে প্রত্যেকটি মেডিসিনের দাম বেড়েছে। মুরগির খাবারের দামও বেড়েছে। এ কারণে খামারে মুরগি পালন করে আমাদের তেমন একটা লাভ হয় না। মাঝেমধ্যে বড় লোকসান হয়।’ একই কথা জানালেন খামারি নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পোলট্রি খাদ্যের দাম কিছুদিন ধরে বাড়তে শুরু করেছে। এক মাস আগে এক বস্তা খাবারের দাম ছিল তিন হাজার ১০০ টাকা। এখন সেই খাদ্য কিনতে হচ্ছে তিন হাজার ২৫০ টাকায়। সেইসঙ্গে মেডিসিন ও খাদ্যের দামও বেড়েছে। অথচ কেজিতে গত সপ্তাহের তুলনায় ১৫ টাকা কমেছে ব্রয়লারের দাম। এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের।’
তবে ব্রয়লারের দাম কমলেও সোনালি ও ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। জেলার খামারি এখলাস উদ্দিন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও তা এখন দাম বেড়ে বর্তমানে ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় মুরগির দাম বেড়েছে।’ আরেক খামারি কামরুল হাসান বলেন, ‘ছয়-সাত দিন ধরে ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১০০ ডিম যেখানে ৯৫০ টাকায় বিক্রি করেছি এখন তা এক হাজার ২০ টাকায় বিক্রি করছি।’
বরিশালে বাড়েনি ব্রয়লার ও সোনালির দাম
বরিশালে লোডশেডিং কিছুটা কমায় স্বস্তিতে আছেন খামারিরা। তবে ১৫-২০ দিন আগে গরমে অসুস্থ হওয়ায় এবং ওজন কমে যাওয়ায় লেয়ার মুরগির ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেড়েছে এই জাতের মুরগি ও ডিমের দাম। তবে ব্রয়লার ও সোনালির দাম বাড়েনি। আগের মতোই আছে। কাশিপু্রের খামারি মাসুম গাজী জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে লোডশেডিং কম। যা ১৫ দিন আগেও ছিল অসহনীয়। ওই সময় গরমে অর্ধশতাধিক ব্রয়লার মুরগি মারা গেছে। এর মধ্যে বেড়েছে খাবারের দামও। এজন্য ব্রয়লার বেশি বড় করতে পারছি না। ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি, ১৫ দিন আগেও একই দাম ছিল। তবে লেয়ারের ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেড়েছে এই জাতের মুরগির কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। সেইসঙ্গে ডিমের দাম বেড়েছে পিসে এক টাকা। এজন্য বাজারে কিছুটা বেড়ে গেছে।
নতুন বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, ‘১৫ দিন আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছিল ১৭০ টাকা। এখন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। কারণ খাদ্যের দাম বেড়েছে।’ কাশিপু্রের লেয়ার মুরগি ফার্মের মালিক হাসিব মিয়া বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের সময় খাবার কম খাওয়ায় লেয়ারের ওজন কমে গিয়েছিল। তার প্রভাব এখন পড়তে শুরু করেছে। কিছু মুরগি মারাও গেছে। যেগুলোর ওজন কমে গিয়েছিল সেগুলো এখন ডিম পাড়া বন্ধ করে দিয়েছে। ১০০ মুরগির মধ্যে অর্ধেকই ডিম পাড়ছে না। এজন্য দাম বেড়েছে ডিমের। আবহাওয়া ভালো থাকলে আবার খাবার খেয়ে ওজন বাড়লে ডিম পাড়বে।’ বাংলা বাজারের মুদি দোকানি ধলু মিয়া বলেন, ‘১৫ দিন আগেও ডিমের হালি ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি। গত সপ্তাহে ৪৫ টাকায় বিক্রি করি। বৃহস্পতিবার ৪৮ টাকায় বিক্রি করেছি। কারণ প্রতি পিসে এক টাকা বেড়েছে।’ বরিশাল বিদ্যুতের গ্রিন লাইন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানিয়েছে, গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে বরিশালে চাহিদা রয়েছে ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের। ওই চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার একই পরিমাণ চাহিদা ছিল। ওই চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হয়নি।
নোয়াখালীর খামারে কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে মুরগির দাম
নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের নোয়াখালী অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স খামারের মালিক জাকির হোসেন জানান, তার খামারে ৪৫ হাজার পিস ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি আছে। যা ১৫ আগেও ছিল ৫০ হাজার। তিনি বলেন, ‘গরমের কারণে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে আমার মুরগির খামারে লোকসান গুনতে হয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে লোডশেডিং কমলেও খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। একদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে মুরগি মারা যাচ্ছে, অন্যদিকে রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ১০ হাজার মুরগি বিক্রি দিয়েছি। তবে আমাদের লোকসান হলেও আগের চেয়ে দাম তেমন বাড়েনি।’
ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ একবার গেলে দুই দিনেও আসে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ না এলে জেনারেটরের তেল খরচ বেশি হয়। বাড়তি খরচ পুষিয়ে আনতেই মুরগির দামও বাড়াতে চাইলেও বাড়ানো যায় না। গত সপ্তাহে যে ব্রয়লার মুরগি পাইকারি ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি সেগুলো এই সপ্তাহে ১৪২ টাকায় বিক্রি করেছি। কেজিতে দুই টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে লেয়ার মুরগির পাইকারি দাম ছিল ২৭০ থেকে ২৭৫ টাকা, যা এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়। পাইকারি পর্যায়ে আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। তারওপর বিগত ছয় মাসে আমরা ডিমে প্রচুর লোকসান দিয়েছি। সাত টাকা প্রতি পিস বিক্রি করেছি। যা এখন আমরা নয় টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি করছি। এর ওপর আবার বেড়েছে খাদ্যের দাম। এক মাসের ব্যবধানে প্রতি বস্তা খাদ্যে ১০০ টাকা করে বেড়েছে।’
খুলনায় আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার
খুলনার খুচরা বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে। তবে খামারে মুরগির দাম বাড়েনি। ব্রয়লার মুরগির কেজি বাজারে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে খামারে ১৪০-১৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুলনা সিয়া লেয়ার ফার্মের মালিক মনি শঙ্কর বলেন, ‘আমার খামারে ৬০০টি লেয়ার আছে। গরমের কারণে ৪-৫টি মারা গেছে। এখন ৭৫ শতাংশ লেয়ারই ডিম দিচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ডিমের পিস আট টাকায় বিক্রি করছি। উৎপাদন খরচ সাড়ে সাত টাকা। এর আগে এক মাস ধরে সাত টাকায় বিক্রি করেছি। আর লেয়ারের কেজিতে বেড়েছে আগের চেয়ে ১০-১৫ টাকা। তবে ব্রয়লার ১৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
রায় পোলট্রির মালিক প্রীতিশ কান্তি রায় বলেন, ‘আমার খামারে ৯০০ লেয়ার আছে। গরমের কারণে ১০০ মুরগি একদিনে মারা গেছে। এখন দিনে তিন-চারটি করে মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে খাবারের দাম বেড়েছে। তাই ডিম উৎপাদন খরচও বেড়েছে। গত ছয় মাস লোকসান দিয়ে ডিম বিক্রি করতে হয়েছে। এই সপ্তাহ ডিমের দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে লেয়ার মুরগির দামও কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।’ ফারজানা পোলট্রি খামারের আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমার ব্রয়লারের খামার। গরমের কারণে প্রায় তিন কেজি ব্রয়লার মারা গেছে। এতে ব্যাপক লোকসান হয়েছে। এখন খাবারের দাম বেড়েছে। সবমিলিয়ে একটি মুরগি বাচ্চা থেকে বড় করে দুই কেজি সাইজে এনে বিক্রি উপযোগী করতে ৩০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু দাম বাড়েনি। আগের পাইকারি দর ১৪২ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হয়। অথচ খুচরা বাজারে ২০০ টাকা কেজি।’
প্রাণিসম্পদ দফতরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার বলেন, ‘বিভাগের ১০ জেলায় লেয়ার মুরগির নিবন্ধিত ৮১০টি খামারসহ মোট খামার রয়েছে ১০ হাজার ৬৮৬টি, ব্রয়লার মুরগির দুই হাজার ২৫১টি নিবন্ধিত খামারসহ মোট খামার ২২ হাজার ১৪২টি ও সোনালি মুরগির ৪৯০টি নিবন্ধিত খামারসহ মোট ছয় হাজার ৫৩৩টি খামার রয়েছে।’



