আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সমাবেশ, ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি
আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিক সমাবেশ, ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবি

গার্মেন্টস খাতের জন্য পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সমাবেশ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। শুক্রবার (১ মে) বিকাল ৪টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন গার্মেন্টসের সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রমিকদের দাবি

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় শ্রমিকদের জন্য মানবিক জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি নির্ধারণ জরুরি। এ জন্য অবিলম্বে গার্মেন্টস খাতের জন্য পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, বন্ধ কারখানা চালু, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং জ্যাকার্ড শ্রমিকদের জন্য তিন শিফট চালুর দাবিও জানান তারা।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক শাখার সভাপতি সাইফুল্লাহ আল মামুন ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি গার্মেন্টস শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ থেকে বঞ্চিত। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না করে টেকসই শিল্পায়ন সম্ভব নয়। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার বাধাগ্রস্ত করা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থি।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমীন বলেন, মালিকপক্ষ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়। শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিত করতে হলে মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনা, শ্রম আইন সংস্কার করার পাশাপাশি দমনপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুব কমিটির সদস্য সচিব দিপক শীল বলেন, শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার হরণ করে কোনও শিল্প টিকিয়ে রাখা যায় না। অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং শ্রম আইনে শ্রমিকবিরোধী ও শ্রমিক নির্যাতনের সুযোগ সৃষ্টি করে এমন ধারাসমূহ বাতিল করতে হবে।

আহত ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারের বক্তব্য

সমাবেশে বক্তব্য দেন তাজরিন গার্মেন্টস শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আদায় সংগ্রাম কমিটির সভাপতি জরিনা বেগম। তিনি বলেন, আজও বহু আহত শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থায়ী অক্ষম শ্রমিকদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

রানা প্লাজায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আদায় সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, রানা প্লাজা ধসের বহু বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক শ্রমিক ও তাদের পরিবার এখনও ন্যায়বিচার ও পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি। নিরাপদ কারখানা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উত্তরা শাখার সভাপতি জয়নাল আবেদীন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ছাঁটাই, নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও ব্ল্যাকলিস্ট প্রথা বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার হরণের শামিল।

সমাবেশে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক, আহত শ্রমিক, নিহত শ্রমিকদের স্বজন এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।