রাজধানীতে বৃষ্টির প্রভাবে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস
বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ৬০ টাকার নিচে কোনও সবজি কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টি আর পরিবহণের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম এত বেশি।

মাংসের বাজার

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ বিক্রেতা ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করছেন না। অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি কেজি ৩৮০ টাকা রাখা হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারের মাংস বিক্রেতা মফিজ জানান, তেলের দাম বেড়েছে। ভাড়া আগের চেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম আর কমবে না। সামনে কোরবানির ঈদ। এখন থেকে ব্যাপারিরা কোরবানি ধরেই গরুর দাম ঠিক করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুরগির দোকানে ব্রয়লারের বাড়তি দাম দেখে ক্ষোভ ঝাড়েন ক্রেতা রাসেল। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগেও ১৮০ টাকায় কিনেছি, এখন বলছে ২০০ টাকা। সবকিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে গরিব মানুষ বাঁচবে কীভাবে? মাইকে তো শ্রমিকদের কথা শোনা যায়, কিন্তু তারা আসলে কীভাবে দিন কাটায় সেটা কেউ দেখে না।

মাছের বাজার

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। সব ধরনের মাছ সপ্তাহের ব্যবধানে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরিবের মাছ খ্যাত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকায়। হাফ কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০, পাবদা ৩৮০, রুই ৩২০ থেকে ৩৬০, কাতল ৪০০, টেংরা ৮৫০, গলদা চিংড়ি ছোট ও বড় যথাক্রমে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজার

জ্বালানি তেলের দাম ও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোনও সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। বরং কোনও কোনও সবজিতে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, টমেটো ৬০, করলা ৬০ থেকে ৬৫, পটল ৬০, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৭০, গাজর ৮০, ঢ্যাঁড়স ৬০, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৭০, শসা ১০০-১১০, বরবটি ৮০, কাঁকরোল ১২০, বেগুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টির কারণে সবজির স্বাভাবিক সরবরাহ সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।

নারিন্দা বাজারের সবজি বিক্রেতা রহিম মিয়ার মতে, টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। এলাকায় কাঁচা রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। তার সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাজারে, ফলে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি।

একই বাজারের আরেক বিক্রেতা ইকরামুল জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে দেশের অনেক এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এতে আগের মতো ঢাকায় সবজি আসছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচও বেড়েছে; যা দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া

রায়সাহেব বাজারে সবজির দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গৃহিণী শিউলি আক্তার। তিনি বলেন, বাজারে এসে দেখি ৬০ টাকার নিচে কোনও সবজি নেই। কয়েক দিন আগেও যেগুলো কম দামে পাওয়া যেতো, এখন সেগুলোর দামও অনেক বেশি। সংসার চালানো এখন খুব কষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে যদি দাম বাড়ে, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ কীভাবে চলবে?

আরেক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, শুধু সবজি না, মাছ-মাংস সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগের মতো বাজার করতে পারি না। যা আয় করি, তার বেশিরভাগই বাজারেই শেষ হয়ে যায়। সরকার যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে না আনে, তাহলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের অবস্থা আরও খারাপ হবে।