গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শহুরে জীবনে এসি ছাড়া স্বস্তিতে থাকা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নতুন এসি কেনার সময় সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কত আসবে।
১.৫ টন এসি কেন জনপ্রিয়?
অনেকেই ১.৫ টন এসি কেনার কথা ভাবেন, কারণ মাঝারি আকারের ঘরের জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী। তবে একই ক্ষমতার এসি হলেও বিদ্যুৎ খরচ এক নয়। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো স্টার রেটিং, বিশেষ করে ৩-স্টার ও ৫-স্টার মডেলের মধ্যে।
৫-স্টার এসির বিদ্যুৎ খরচ
একটি ৫-স্টার ১.৫ টন এসি সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। যদি প্রতিদিন গড়ে ৮ ঘণ্টা ব্যবহার করা হয়, তাহলে দিনে প্রায় ৬ থেকে ৬.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হবে। বাংলাদেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য বিবেচনা করলে দিনে প্রায় ৫০ টাকার মতো খরচ হতে পারে, যা মাস শেষে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
৩-স্টার এসির বিদ্যুৎ খরচ
অন্যদিকে, ৩-স্টার ১.৫ টন এসির ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা বেশি। এটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১.১ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। একইভাবে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা চালালে দৈনিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৮ থেকে ৯ ইউনিট। ফলে মাসিক বিল বেড়ে প্রায় ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
৫-স্টার বনাম ৩-স্টার: সাশ্রয় কত?
এই দুই ধরনের এসির তুলনা করলে দেখা যায়, ৫-স্টার মডেল ব্যবহারে প্রতি মাসে গড়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। যদিও শুরুতে ৫-স্টার এসির দাম বেশি, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে সেই অতিরিক্ত খরচ অনেকটাই পুষিয়ে দেয়।
ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি
বর্তমানে বাজারে ইনভার্টার এবং ডুয়াল ইনভার্টার প্রযুক্তির এসিও বেশ জনপ্রিয়। এই ধরনের এসি ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়। এতে শুধু বিদ্যুৎ বিলই কমে না, বরং এসির আয়ুও বাড়ে।
ব্যবহার পদ্ধতিতে খরচ কমানোর উপায়
শুধু এসির ধরন নয়, ব্যবহার পদ্ধতির উপরও বিদ্যুৎ বিল নির্ভর করে। যেমন—তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখলে, ঘর ভালোভাবে সিল করা থাকলে এবং নিয়মিত সার্ভিসিং করলে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সঠিক স্টার রেটিং ও ব্যবহার পদ্ধতি অনুসরণ করলে ১.৫ টন এসি থেকে সর্বোচ্চ সাশ্রয় পাওয়া সম্ভব।



