রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ভ্যাটের চাপ এবং মাঠপর্যায়ে হয়রানিমূলক অভিযানের কারণে দেশের রেস্তোরাঁ খাত চরম চাপের মধ্যে পড়েছে। তারা আরও দাবি করেন, বাজেটপূর্ব আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরদিন ভ্যাটপ্রদানকারী রেস্তোরাঁয় একযোগে অভিযান চালানো হয়।
অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের নেতারা
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) যৌথ আয়োজিত উপদেষ্টা কমিটির এক সভায় এসব অভিযোগ তুলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ভ্যাটপ্রদানকারীদের ওপর চাপ
ইমরান হোসেন বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাজেট আলোচনার পরদিন ভ্যাটপ্রদানকারী রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এর ফলে বিক্রি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। তিনি বলেন, একদিকে ভ্যাট বাড়ানোর চাপ, অন্যদিকে অনিয়মিত অভিযান—এভাবে চললে ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানির কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি সরকারের কাছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাবান্ধব করনীতি প্রণয়ন, ভ্যাট প্রশাসনে হয়রানি বন্ধ এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের আহ্বান জানান।
ভ্যাট ফাঁকি দেওয়াদের ওপর চাপ নেই
ইমরান হোসেন বলেন, দেশে প্রায় ৪ লাখ ৮২ হাজার রেস্তোরাঁ থাকলেও একটি বড় অংশ করের আওতার বাইরে। তাদের সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। যারা নিয়মিত ভ্যাট দিচ্ছেন, তাদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, পাশের দোকানটি ভ্যাট দেয় না, লাইসেন্স নেই—তাদের ওপর কোনো চাপ নেই। এতে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না।
তিনি রেস্তোরাঁ খাতের জন্য ভ্যাটের হার কমানোর প্রস্তাব দেন এবং ভ্যাটের সঙ্গে সমন্বয় করে আয়কর আদায়ের কথা বলেন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সরল ও সহজ করব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
কাঠামো জটিল, হিসাবরক্ষক নিতে বাধ্য
ইমরান হোসেনের মতে, বর্তমান করকাঠামো এত জটিল যে ছোট ব্যবসায়ীদের হিসাবরক্ষক নিয়োগ ও নিরীক্ষা করাতে হয়, যা তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড় করপোরেটের প্রবেশে শঙ্কা
রেস্তোরাঁ খাতে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হোসেন। তিনি বলেন, বড় গ্রুপগুলো আমদানি সুবিধা ও আর্থিক সক্ষমতা ব্যবহার করে কম দামে পণ্য সরবরাহ করছে, যা ছোট উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ৩০ হাজার কোটি টাকা টার্নওভারের একটি বড় করপোরেট গ্রুপ বিরিয়ানি ব্যবসার মতো খাতে প্রবেশ করছে। এতে ছোট উদ্যোক্তারা ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
নীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইমরান হোসেন বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীরা অনিয়মে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের সমান সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই আমলাতন্ত্র আমাদের বের হতে দেবে না।



