রাজধানীর পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে জ্বালানি তেলের জন্য কোথাও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়নি। কোথাও দুটি, কোথাও ১০ থেকে ১৫টি যানবাহন লাইনে জ্বালানি তেলের অপেক্ষায় ছিল। অল্প সময় অপেক্ষার পরেই তেল পেয়েছেন গ্রাহকেরা। পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক বলছেন তাঁরা। তবে তেল সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি আছে।
পূর্বের চিত্র থেকে পরিবর্তন
ইরান যুদ্ধ শুরুর পরে কিছুদিন আগে পর্যন্ত রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ছিল লম্বা লাইন। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের অপেক্ষা। তবে আজকে ভিন্ন চিত্র দেখা গেল।
শহীদবাগ ও আরামবাগের অবস্থা
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে শহীদবাগে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র দুটি মোটরসাইকেলের চালক জ্বালানি তেল নিচ্ছেন। তেলের জন্য লাইনে আর কোনো মোটরসাইকেল নেই। কয়েক দিন আগেও এই ফিলিং স্টেশনে সকালের এই সময়ে তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লম্বা লাইন ছিল। আজ দেখা গেছে, তিন থেকে চারটি প্রাইভেট কার তেল নিচ্ছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আরামবাগে মেসার্স এইচ কে ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫টি প্রাইভেট কার লাইনে দাঁড়ানো। মোটরসাইকেলের লাইন খালি। এই ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা প্রাইভেট কার চালক মো. শাহজাহান বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখনো পাম্পে তেল আসেনি। বলছে অল্প কিছুক্ষণের ভিতরে তেল আসবে। তেল আসলেই পেয়ে যাব।’
এই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মো. রাজু প্রথম আলোকে জানান, এখনো তেল আসেনি। তেলের জন্য কয়েকটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। তেল আসলে পাঁচ মিনিটের ভিতরে এই লাইন শেষ হয়ে যাবে।
মতিঝিল ও মৎস্যভবনের চিত্র
দুপুর ১২টার দিকে মতিঝিলের করিম এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। এই ফিলিং স্টেশনে গত এক সপ্তাহ আগে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার মিলিয়ে হাজারের ওপরে গাড়ি তেলের জন্য অপেক্ষায় ছিল। আজকে লাইনে কোনো গাড়ি নেই। মাঝে মাঝে দু একটি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার এসে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে।
এই ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুস সালাম বলেন, ''এখন আর আগের মতো লম্বা লাইন নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তবে আমরা আগের তুলনায় ডিজেল একটু কম পাচ্ছি। আপাতত অকটেন নিয়ে তেমন ঝামেলা নেই।''
বেলা ১টার দিকে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে রমনা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, এখানেও তেলের জন্য কোনো লাইন নেই। একটু পরপর মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারগুলো এসে লাইন ছাড়াই তেল নিয়ে যাচ্ছে।
গ্রাহকদের মতামত
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ার চালক মো. স্বপন বলেন, ''এখন ভোগান্তি না থাকলেও দামটা একটু বেশি। দামটা একটু কমালে আমাদের জন্য ভালো হতো। মানুষ তো ভাড়া আগের তুলনায় বেশি দেয় না।''



