কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় টানা ১৬ দিন ধরে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দুই উপজেলা মিলে একটি মাত্র ফিলিং স্টেশন থাকলেও তেল সংকট ও ‘ফুয়েল কার্ড ইস্যু শেষ না হওয়ার’ অজুহাতে পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার জ্বালানি নির্ভর খাতগুলো চরম বিপাকে পড়েছে।
পরিবহন খাতে স্থবিরতা
স্থানীয় পরিবহন চালকদের ভাষ্য, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রৌমারীতে তেল বিক্রি হচ্ছে না। সর্বশেষ ১০ এপ্রিল তারা ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে পেরেছিলেন। এরপর আর পাম্পটি খোলেনি। পাম্পে গেলে কর্মচারীরা ‘তেল নাই’ বা ‘ফুয়েল কার্ড শেষ হলে তেল দেওয়া হবে’ বলে ফিরিয়ে দেন। রাজিবপুর উপজেলায় একটি মিনি পাম্প থাকলেও সেখানেও তেল সরবরাহ বন্ধ। ফলে রৌমারী ও রাজিবপুরের গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন না।
সড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা কমেছে
তেল সংকটের কারণে ওই দুই উপজেলার সড়কে পেট্রল ও অকটেনচালিত মোটরযান, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মানুষ রিকশা ও ভ্যানে করে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করছে। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। মোটরসাইকেল না থাকায় পরীক্ষার্থীরা রিকশা ও ভ্যানের ওপর নির্ভর করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম ও সুমন মিয়া বলেন, ‘আমরা চরম বিপাকে আছি। তেল নেই, বিদ্যুতও নেই। তেলের অভাবে মানুষ গাড়ি চালাতে পারছে না। এলাকায় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছার একমাত্র মাধ্যম মোটরসাইকেল, কিন্তু এখন তা নেই। একমাত্র পাম্পটি প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ। এভাবে কতদিন চলবে?’
ইটালুকান্দা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ১২-১৩ কিলোমিটার। তেল না থাকায় হেঁটে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে হাঁটাও মুশকিল। রাস্তায় মোটরসাইকেলই একমাত্র বাহন। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানও চলছে না। একদিন তেলের জন্য পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু প্রতিদিন তা সম্ভব নয়।’
পাম্প ম্যানেজারের বক্তব্য
ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহজামাল বলেন, ‘এপ্রিল মাসে একবার তেল এনে বিক্রি করি। পরে সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রল বরাদ্দ পেলেও ফুয়েল কার্ড ইস্যু শেষ না হওয়ায় তেল আনি না। ইউএনও বলেছেন, কার্ড দেওয়া শেষ হলে তেল আনতে। কার্ডের কাজ শেষের দিকে। আগামী সোমবার তেল এনে মঙ্গলবার বিক্রি করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ কিছু মানতে চায় না। অনেকে রাত জেগে লাইনে থাকে। কেউ নেতা, কেউ সাংবাদিক, কেউ পুলিশ পরিচয়ে আগে তেল নিতে হুড়োহুড়ি করে। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়েও আটকানো যায় না। তেল শেষ হলেও বলে-তেল দাও। মেশিন দিয়ে হাওয়া বের না হওয়া পর্যন্ত পাম্প ছাড়ে না।’
ইউএনওর প্রতিক্রিয়া
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, ‘তেল আসেনি। তেল আসলে দেওয়া হবে।’ ফুয়েল কার্ড ইস্যু শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেল না আনার নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সঠিক নয়। ফুয়েল কার্ড দেওয়া চলমান প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে তেল বিক্রি বন্ধের কোনো সম্পর্ক নেই।’



