বিদ্যুৎ ভর্তুকি কমছে না, নতুন মূল্যেও লাগবে ৪১ হাজার কোটি টাকা
বিদ্যুৎ ভর্তুকি কমছে না, লাগবে ৪১ হাজার কোটি টাকা

বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপ কমছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন মূল্যহার কার্যকরের পরও বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।

নতুন মূল্যহার ঘোষণা

বুধবার (৩ জুন) বিইআরসির সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। এতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা আয় হবে। তবে এরপরও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হবে।

ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

তিনি জানান, সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর রেট অব রিটার্ন (আরওআর) ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের দাম কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। অন্তত নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজন নাও পড়তে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ

জালাল আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের আদেশের সঙ্গে মেরিট অর্ডার ডিসপ্যাচ, ক্যাপাসিটি চার্জ কমানোসহ ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে। এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

গ্রাহক পর্যায়ের মূল্য

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর নির্ধারিত রেট অব রিটার্ন বিবেচনায় রেখে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সব শ্রেণির গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়লেও ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আবাসিক ও সেচ গ্রাহকদের জন্য নিম্নচাপে কিলোওয়াটপ্রতি ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং মধ্যমচাপে ৯০ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। অন্যান্য খাতের মধ্যে নির্মাণ শিল্পে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা ডিমান্ড চার্জ রয়েছে।

সময়ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ

এছাড়া সময়ভিত্তিক বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টিও বহাল রাখা হয়েছে। বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে বিদ্যুতের দাম সবচেয়ে বেশি থাকবে। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সুপার অফ-পিক আওয়ারে দাম সবচেয়ে কম হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়কে অফ-পিক হিসেবে ধরা হয়েছে। কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময়ও অফ-পিক হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবহার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।