ঈদ পরবর্তী চাপেও পটুয়াখালীতে লঞ্চে যাত্রী সংকট, বাসে টিকিট হাহাকার
ঈদ পরবর্তী চাপেও পটুয়াখালীতে লঞ্চে যাত্রী সংকট

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে পটুয়াখালীতে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। ঢাকাগামী বাসের টিকিট পেতে যাত্রীরা কাউন্টার থেকে কাউন্টারে ছুটছেন। অথচ একই সময়ে লঞ্চগুলো অর্ধেকের বেশি আসন খালি নিয়েই রাজধানীর উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে।

লঞ্চ টার্মিনালের চিত্র

সোমবার বিকালে পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, সুন্দরবন-১৪, প্রিন্স কামাল-১, এমভি পূবালী-১২ ও প্রিন্স আওলাদ-৭ লঞ্চগুলো ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ঈদ-পরবর্তী ব্যস্ত সময়েও এসব লঞ্চের কেবিন ও ডেকের উল্লেখযোগ্য অংশ ফাঁকা ছিল। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৫০ শতাংশ কেবিন ও ডেক খালি রেখেই লঞ্চগুলো ছেড়ে গেছে।

বাস টার্মিনালে বিপরীত চিত্র

অন্যদিকে পটুয়াখালী বাস টার্মিনালে ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্য। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকাগামী যাত্রীরা বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে টিকিটের খোঁজে ভিড় করছেন। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিকাংশ বাসের টিকিট আগামী ৫ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা

ঢাকাগামী যাত্রী ছোকানুর বেগমের সঙ্গে কথা হয় এমভি পূবালী-১২ লঞ্চে। তিনি বলেন, “প্রথমে বাস কাউন্টারে গিয়ে কোনও সিট পাইনি। পরে লঞ্চে উঠেছি। ভেবেছিলাম অনেক ভিড় থাকবে, কিন্তু কোনও ঝামেলা ছাড়াই শান্তিতে ঢাকায় যেতে পারছি।”

সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের যাত্রী আফজাল হোসেন বলেন, “বাসে টিকিট না পেয়ে লঞ্চে যাচ্ছি। এই সময়ে কেবিন পাবো ভাবিনি। সময় একটু বেশি লাগলেও লঞ্চযাত্রা আরামদায়ক। আগের মতো ভোগান্তিও নেই।”

তবে অনেক যাত্রী এখনও লঞ্চের পরিবর্তে লোকাল বাসে ভেঙে ভেঙে ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের ধারণা, বাসে যাতায়াতই বেশি সুবিধাজনক।

আমতলী থেকে আসা আল-আমিন বলেন, “পটুয়াখালীর আটটি কাউন্টারে ঘুরেও ঢাকার টিকিট পাইনি। এখন লোকাল বাসে বরিশাল যাচ্ছি। সেখান থেকে কোনও পরিবহন পেলে ঢাকায় যাবো, না হলে ভেঙে ভেঙে যেতে হবে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই যাত্রী সংকটে পড়েছে নৌপথ। ঈদকেন্দ্রিক যাত্রী চাপ থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা থাকলেও এবারও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। এমভি পূবালী-১২ লঞ্চের কেবিন বয় সজীব মিয়া বলেন, ঈদের পরে কর্মস্থলে ফেরার সময়ও লঞ্চে তেমন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। কেবিনের যাত্রী মোটামুটি থাকলেও ডেকের যাত্রী তেমন নেই।

এমভি পূবালী-১২ লঞ্চের সুপারভাইজার ইকবাল মাহমুদ বলেন, “ঈদের সময় ভালো যাত্রী হবে বলে আশা ছিল। কিন্তু এবারও যাত্রী সংখ্যা আশানুরূপ নয়। পদ্মা সেতুর কারণে স্বল্প সময়ে বাসে ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হওয়ায় অনেকেই নৌপথ এড়িয়ে যাচ্ছেন।”

এম.ভি. প্রিন্স কামাল-১ লঞ্চের কেবিন বয় নেছার উদ্দিন বলেন, “আমাদের ৫০% কেবিন খালি রয়েছে। ডেকের যাত্রীও সংকট।” ওই লঞ্চের সুপারভাইজার আবুজার গাফ্ফারী জানান, “সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার ৩০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ডেক ভাড়া ৫০০ টাকা। বাসের তুলনায় ভাড়া কম হলেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।”

বাস কাউন্টারে চাহিদা তুঙ্গে

এদিকে পরিবহন কাউন্টারগুলোতে টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। পটুয়াখালী এনা পরিবহনের কাউন্টার ইনচার্জ রনি মিয়া জানান, সোমবার ১২টি বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে এবং আগামী ৭ জুন পর্যন্ত অধিকাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।

গ্রীন লাইন পরিবহনের প্রতিনিধি রুবেল হাওলাদার বলেন, তাদের বাসের আসন ৫ জুন পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে।

ইউনিক পরিবহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকমান হোসেন জানান, সোমবার ১৬টি বাস ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। কোনও বাসেই খালি আসন নেই। আগামী ৬ জুন পর্যন্ত অগ্রিম টিকিটও বিক্রি হয়ে গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর তথ্য

পটুয়াখালী বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি বর্ণিক জানান, সোমবার বিকালে চারটি লঞ্চ পটুয়াখালী টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে লঞ্চগুলো টার্মিনাল ত্যাগ করে।

সংশ্লিষ্টদের মত

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুতগামী সড়ক যোগাযোগের সুবিধা বাড়লেও নৌপথে যাত্রীসেবা উন্নত হয়েছে। তবু সময় বাঁচাতে অধিকাংশ যাত্রী বাসকেই বেছে নেওয়ায় ঈদ মৌসুমেও যাত্রী সংকটে ভুগছে পটুয়াখালীর লঞ্চগুলো।