রাজধানী ঢাকায় চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) নগরজুড়ে ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দিনের তাপমাত্রার তুলনায় রাতের অস্বাভাবিক উষ্ণতাই এই তীব্র গরমের মূল কারণ।
রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি বেশি
গত রাতে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা দিনের আবহাওয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। আজ রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও তাপপ্রবাহ
ঢাকার পাশাপাশি দেশের আরও কয়েকটি জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বাগেরহাটে সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া যশোরে ৩৬ দশমিক ৮, সাতক্ষীরায় ৩৬ দশমিক ৪, খুলনায় ৩৬ দশমিক ২ এবং পাবনা ও রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদের ব্যাখ্যা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, রাজধানীর রাতের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গরমের অনুভূতি তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দিনের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি হলেও ঢাকার জন্য এটি খুব অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, চলতি মাসের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মে মাসের স্বাভাবিক তাপমাত্রা এতদিন দেখা যায়নি। তবে গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, আর ঢাকায় আজ প্রথমবারের মতো তা অনুভূত হলো।
আগামী দুই দিনের পূর্বাভাস
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী অন্তত দুই দিন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন গরম অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিও হতে পারে। ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঢাকাতেও সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।



