বাজেটে পিছিয়ে পড়াদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের পরামর্শ সিপিডির
বাজেটে পিছিয়ে পড়াদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের পরামর্শ

রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণে আগামী বাজেটে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিশেষ উদ্যোগ থাকতে পারে, তবে তা কার্যকর করতে হলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া সহায়তার অর্থও মানুষের প্রকৃত উপকারে আসবে না।”

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “সরকার পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড কিংবা খাল খননের মতো কর্মসূচির কথা বলছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানোর মতো অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে দুই-আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে, তা মূল্যস্ফীতির চাপে শেষ হয়ে যাবে। লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলবে।” তার মতে, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হলে দক্ষতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি দমন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কার জরুরি।

নতুন সরকার কী ধরনের অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও প্রামাণ্য মূল্যায়ন দলিল তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট প্রণয়নের পরিবর্তে আবারও গতানুগতিক বাজেটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাজেটের মূল প্রাণ হচ্ছে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা। এবার কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলাভিত্তিক বাজেট প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আলোচনায় তেমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন; তবে তাদের জন্য বরাদ্দ ভাতার অর্থ দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।”

সংলাপে সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আসন্ন বাজেটে সরকারের আয়-ব্যয়, অর্থায়ন ও ঋণ ব্যবস্থাপনা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয় হবে। সরকার সম্পদের পুনর্বণ্টন করতে পারছে কি না, সেটাই হবে বাজেটের লিটমাস টেস্ট।”

তিনি আরও জানান, আগামী বাজেটে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারের সুদাসলে প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানে সংস্কার আনার জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা বা ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, “নতুন সরকারের অধীনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরলেও ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।” ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি দূর না হলে নতুন বিনিয়োগ আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।