সরকার জুলাই থেকে ধাপে ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে ১৩ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা জুলাই থেকে নতুন কাঠামোতে বেতন পাবো, এতে কোনো সংশয় নেই।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
কর্মকর্তারা জানান, নতুন বেতন কাঠামো তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভাতাগুলো যুক্ত হতে পারে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ কমবে এবং সরকারের অর্থায়ন সহজ হবে।
অর্থায়ন পরিকল্পনা
আগামী অর্থবছর থেকে মূল বেতনের অর্ধেক দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সংস্থান রাখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতায় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর খসড়া বাজেট বক্তব্যে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছর জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে, যা গত ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা গ্রেড ভেদে ১০০ শতাংশ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশকৃত কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা ও পেনশনারদের সুবিধাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।



